নিজস্ব সংবাদদাতা: মৃতের সংখ্যা ১৩০০ ছাড়িয়েছে। তবু, সম্বিত ফিরেছে কি? নেপালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর দেশে-বিদেশে একটাই প্রশ্ন, কেন এত হড়পা বান? আগে তো এত হত না। কেনই-বা এত মেঘভাঙা বৃষ্টি? আগে তো এত শোনা যেত না। পরিবেশবিদ থেকে শুরু করে গবেষক-বিজ্ঞানীরা যা বলছেন তার সারকথা একটাই— যেভাবে তেতে উঠছে গোটা বিশ্ব, তাতে এমনটাই হওয়ার কথা। এখন প্রশ্ন হল, কেন এতে তেতে উঠছে? কেন এত বিশ্ব উষ্ণায়নের কথা শোনা যাচ্ছে? উত্তরে আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে-হারে নির্মাণ কাজ চলছে, চারদিক বহুতলে ছেয়ে যাচ্ছে, ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বেড়ে চলেছে, ঘরে-ঘরে এয়ার কন্ডিশনার বসানো হচ্ছে, সবকিছুর সম্মিলত পরিণতিতেই বেড়ে চলেছে উষ্ণায়ন। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একটাই উপায়— আমাদের ভোগ, বিলাস আর অপচয়ে লাগাম টানতে হবে এবার।

এই যে এত বহুতল, ১০ তলা থেকে শুরু করে ৩০ তলা হয়ে ৬০ তলা অবধি পৌঁছে যাচ্ছে আমাদের জীবনযাত্রা, সেখানে রাশ টানতে হবে। পরিবেশবিদরা বলছেন, এত বেশি কংক্রিটের জঙ্গল তৈরি হয়েছে শহরাঞ্চলে, মাটি বলে আর কিছু অবশিষ্ট থাকছে না। বৃষ্টির জলে ভিজে মাটি আর শীতল হতে পারছে না। তাপমাত্রা তাই বেড়ে চলেছে।

এখানেই শেষ নয়। পরিকল্পনাহীন নগরায়ন আর বেপরোয়া বহুতল— ভূগর্ভের জলস্তরকে তলানিতে নিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, এয়ার কন্ডিশন মেশিন থেকে নির্গত গরম হাওয়া চারপাশকে উত্তপ্ত করে চলেছে। ক্রমাগত বেড়ে চলা গাড়ি কার্বন নিঃসরণ করে চলেছে। শিল্প বিপ্লবের সময়ে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা যা ছিল, এই আড়াইশো বছরে তা ১ থেকে ২ ডিগ্রি বেড়েছে। হিমবাহ গলতে শুরু করে দিয়েছে। আচমকা গলে পড়া হিমবাহের জল প্রবল বেগে ছুটে আসছে লোকালয়ের দিকে। সমুদ্রের নিচেও তাপমাত্রার ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে। উপকূলবর্তী এলাকায় মাঝে মধ্যে মরা মাছের দল ভেসে উঠছে। তাপমাত্রার তারতম্যে সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সমুদ্র থেকে জলোচ্ছ্বাস তাই এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠেছে।

আরও একটি বিষয় নিয়ে পরিবেশবিদরা চিন্তিত। পাহাড়ি জায়গায় অবাধে নির্মাণ কাজ চলছে। যার কিছুটা আইনি, কিছুটা বেআইনি। গত এক দশকে উত্তরাখণ্ডে পর-পর বিপর্যয় চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, পাহাড়ি অঞ্চলে বহুতল নির্মাণ, একের-পর-এক হোটেল, এমনকি, শপিং মল— এই মহাবিপর্যয়ের জন্য দায়ী।

Translate »