নিজস্ব সংবাতদাতা: এতদিন আমরা জানতাম যে, রাসায়নিক কীটনাশক ফসলের গোড়া থেকে সরাসরি আমাদের খাদ্যশৃঙ্খলে চলে আসে। যদিও, সেই জানার ব্যপারটা খুব সহজ ছিল না। গত শতাব্দর ষাটের দশকে ব়্যাচেল কারসনের অনুসন্ধানী রিপোর্ট কীটনাশকের বিপদ নিয়ে আমাদের সতর্ক করে। এরপর কেটে গেছে ৮০ বছর। প্রথম বিশ্বের ধনী দেশগুলি রাসায়নিক সার আর জৈব সারের মধ্যে একটা ভারসাম্য রেখে চলার চেষ্টা করছে এখন। কিন্তু, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি সে-পথে বড় একটা হাঁটেনি। তাই কীটনাশকের বিপদ মাথায় নিয়ে আমাদের বাঁচতে হচ্ছে। ফসলের ফেলে দেওয়া অংশ খাচ্ছে গবাদি পশুরা। ধরা যাক, গরু খাচ্ছে কীটনাশক দেওয়া ফসলের ফেলে দেওয়া অংশ,.অথবা খড়-বিচুলি। গরুর শরীর ঢুকছে কীটনাশকের বিষ। এবার, সেই গরুর দুধ খাচ্ছি আমরা। দুধ থেকে তৈরি ছানা-পনির সবই খাচ্ছি আমরা। আমাদের শরীরও নিঃশব্দে থাবা বসাচ্ছে কীটনাশক।
এখন যা দেখা যাচ্ছে, তা আরও ভয়ানক। এতদিন খাদ্যশৃঙ্খলে যে-বিষ ছড়িয়ে গিয়েছিল, এখন তা সরাসরি তা কৃষকের শরীরে ঢুকতে শুরু করেছে। ছোট চাষি ও ক্ষেত মজুররা জমিতে কীটনাশক স্প্রে করেন। আমরা সেই ছবি দেখে অভ্যস্ত। দেখা যাচ্ছে, তাঁরা যেহেতু সরাসরি এই বিষের সংস্পর্শে আসছেন, তাই তাঁদের বিপদ আরও বাড়ছে। বিশেষ করে আমাদের মতো কৃষি নির্ভর দেশে, এই বিষের ছোবলে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গোটা বিশ্বে যতজন কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের অর্ধেক এই রাসায়নিক-বিপদের মধ্যে পড়েছেন। পেস্টিসাইড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক তাদের সমীক্ষায় জানাচ্ছে, ১৩৯ টি দেশের ৯০ কোটিরও বেশি কৃষিজীবী ও ক্ষেতমজুরের শরীরে ঢুকেছে কীটনাশকের বিষ। সমগ্র বিশ্বের মোট কৃষিজীবীদের ৪৬ শতাংশ। কীটনাশকের বিষের সংস্পর্শে মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার কৃষিজীবীর। এই ১১ হাজারের মধ্যে ৬০ শতাংশই আমাদের দেশের কৃষক ও ক্ষেতমজুর।… জৈব সারের ব্যবহার নিয়ে এবার সিরিয়াসলি ভাবতে হবে আমাদের। নইলে, বিষের ছোবল অবধারিত।