নিজস্ব সংবাদদাতা: গরমকালের এক রাতে ওয়াশিংটনে বসে আকাশ নিরীক্ষণ করছিলেন জ্যোতির্বিদ আসাফ হল। সেই রাতে মঙ্গল গ্রহ খুব কাছাকাছি এসেছিল পৃথিবীর। তাঁর জিজ্ঞাসু মন নিজেকে প্রশ্ন করেছিল আচ্ছা, মঙ্গল গ্রহের কি কোনো চাঁদ বা উপগ্রহ আছে? উত্তর খোঁজার জন্য রাতের পর রাত টেলিস্কোপে চোখ রেখে চলেন তিনি। একদিন হঠাৎই আবিষ্কার করলেন একটা নয়, লালরঙা মঙ্গলের দুটি চাঁদ। সালটি ছিল ১৮৭৭। দিনটি ছিল অগাস্ট মাসের ১১ তারিখ। এই দুটি চাঁদের নামকরণ করেন আসাফ হল – বড় ভাই ‘ ফিবোস’, ছোটো ভাই ‘ ডিমোস’। রোমান দেবতা মার্স-এর গ্রিক প্রতিরূপ আরেসের পৌরাণিক পুত্রদের নামে দুটি চাঁদকে হল নামকরণ করেন ,’ফোবোস’ ও ‘ডিমোস’। এই দুটি চাঁদ আমাদের চাঁদের থেকে ণঅনেকটাই আলাদা। এই দুটি চাঁদ পুরো গোল নয়, অনেকটাই এবড়োখেবড়ো। গায়ের রং কুচকুচে কালো।

বড় চাঁদ ফোবোস দিনে তিনবার মঙ্গল গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে। ছোট চাঁদ ‘ডিমোস’ প্রতি তিরিশ ঘন্টায় একবার মঙ্গল গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে। ফোবোসের ব্যাস১৭×১৪×১১ মাইল(২৭×২২×১৮কিলোমিটার )। এটি প্রতি ১০০বছরে ছ ফুট (১. ৮মিটার) হারে মঙ্গলের দিকে ধেয়ে আসছে। এই হারে এগোতে থাকলে চাঁদটি একদিন মঙ্গলে আছড়ে পড়বে অথবা ভেঙে একটি বলয়ে পরিণত হবে। ফোবোসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে ২৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ) এবং সর্বনিম্ন-১৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইট(-১১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস )। ফোবোসে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। তবে, এই তত্ত্বের বিরোধিতা করেছেন অনেক বিজ্ঞানী। এই চাঁদটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো’স্টিকনি কেটার’। নাসার মার্স গ্লোবাল সার্ভেয়ারের মাধ্যমে যে ছবির সামনে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে এটি সূক্ষ্ম ধূলিকণায় পূর্ণ। এবং এর ঢালু পৃষ্ঠ গড়িয়ে বড় বড় পাথর বেয়ে আসার প্রমাণ ও মিলেছে। পর্যবেক্ষণ থেকে আরো জানা যাচ্ছে যে, যুগ যুগ ধরে উল্কাপিন্ডের আঘাত করার কারণে এর পৃষ্ঠভাগ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, আঘাতে সৃষ্ট ভূমিধস বিশাল গর্তগুলোর ঢালে তাদের কালো চিহ্ন রেখে গেছে।

ফোবোসের ভাই হলো ডিমোস। আকারে তুলনামূলকভাবে ছোট। এর আকার ৯×৭×৬. ৮মাইল(১৫×১২×১১ কিলোমিটার )। যখন এই চাঁদটি কোন বস্তুতে ধাক্কা দেয় তখন ডিমোসের পৃষ্ঠ থেকে ঝরে পড়ে ধ্বংসাবশেষ ও ধূলিকণা। মহাকর্ষীয় টান না থাকায় এর কিছুই ধরে রাখতে পারে না ডিমোস। তবে আঘাতে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের একটি বলয়কে গ্রহটির চারপাশে প্রায় একই অঞ্চলে ধরে রাখে মঙ্গলের মহাকর্ষ। অনেক বিজ্ঞানীরা মনে করেন এই দুটি চাঁদ আগে গ্রহাণু ছিল। যারা মঙ্গল গ্রহের মহাকর্ষ শক্তিতে আটকে গেছে । আবার অন্য এক তত্ত্ব বলে, কোনো বড় বস্তু এক সময়ে ধাক্কা মেরেছিল মঙ্গল গ্রহে।সেই ধাক্কাধাক্কি অর্থাৎ সংঘর্ষের ফলে যে ধ্বংসাবশেষ উৎপন্ন হয়েছিল, তার থেকেই তৈরি এই দুটি চাঁদ। মঙ্গল গ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। কোন এক সময়ে এই গ্রহটি মানুষের বাসযোগ্য হবে কিনা, এটাই এখন মুখ্য বিষয়।

Translate »