নিজস্ব সংবাদদাতা: মণিকর্ণিকা ঘাটের মাহাত্ম্য জানে না এমন মানুষ খুব কমই আছে। বহু বছরের ইতিহাস এই ঘাটের পরতে পরতে রয়েছে। কিন্তু এই ঘাট ক্রমশ দূষিত হচ্ছিল, চারপাশ ফেলে দেওয়া কাপড় জামা, শাড়ি বা অন্যান্য জিনিস এ ছেয়ে যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে ঘাট সংলগ্ন ফেলে দেওয়া পোশাক আশাক তুলে নিয়ে জায়গাটি স্বচ্ছ করা হয়েছে। বলে রাখা ভালো, এই ঘাটে শেষকৃত্য হওয়া মানে পুণ্য অর্জন করা। শুনতে পাওয়া যায় এই ঘাটে ২৪ ঘন্টাই চিতা জ্বলতে থাকে। এই চিতা কখনো নেভেনা। এই ঘাট সংলগ্ন জায়গায় চিতায় জ্বালানোর মত কাঠ পাওয়া যায়। এই ঘাটে প্রিয়জনকে দাহ করে চলে যাওয়ার সময় অনেকেই পোশাক-আশাক ফেলে রেখে চলে যান। প্রতিদিন এত দেহ জালানো হয় এখানে যে, বিপুল পরিমাণ ফেলে দেওয়া জিনিসে ঘাট ও ঘাট সংলগ্ন এলাকা অপরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। গঙ্গার জলস্তর আর ঘাটের ময়লা মিশে যায়। এই পরিস্থিতিতে এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া হলো, ঘাটের যাবতীয় ময়লা, ফেলে দেওয়া টন-টন কাপড় জামা, সব সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলা হলো।
নমামি গঙ্গে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত অনেকে মিলে এই কাজ করলেন। তবে তা সহজ ছিল না বেশ কঠিন ছিল। তবু ও সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন কেউ কেউ। সে এক মহাযজ্ঞ। টানা কয়েক দিন ধরে ফেলে দেওয়া পোশাক ও অন্যান্য জিনিস এক জায়গায় জড়ো করা হলো। এই কাজ চলল বেশ কয়েকদিন ধরে। তারপর পুরোটা একত্রিত করে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তা নষ্ট করে ফেলা হয়। এর ফলে গঙ্গার ঘাট তার মাহাত্ম্য ফিরে পায় আবার দূষণের হাত থেকে বাঁচে গঙ্গা নদীও। গঙ্গা যত বেশি সমতলের দিকে আসছে, তত বেশি তার দূষণ বাড়ছে। আক্ষরিক অর্থে, অনাক্ষরিক অর্থেও। উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকা হয়ে যখন উত্তরপ্রদেশে আসছে গঙ্গার প্রবাহ, তত বেশি জলদূষণ।
প্রসঙ্গত, গঙ্গা দূষণ প্রতিরোধে ৫০ বছর আগে গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান নেওয়া হয়েছিল। তাতে গঙ্গা দূষণ কিছুটা কমানো গেলেও শেষ অবধি তা থেকেই গিয়েছিল। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার নমামি গঙ্গে প্রকল্প নিয়েছে। এই প্রকল্পের সৌজন্যে গঙ্গার দূষণ অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে। গঙ্গা দূষণের অনেক কারণ রয়েছে। কারখানা থেকে বর্জ্য জল, অপরিচিত জল সোজা গিয়ে নদীতে পড়তো। এক্ষেত্রে ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে বর্জ্য পরিশুদ্ধ করে তবেই গঙ্গায় ফেলা যাবে, এখন এটাই নিয়ম এবং খুব কঠোরভাবে এই নিয়ম মানা হয়। শুধু তাই নয়, গঙ্গায় যা খুশি তাই ফেলে দেওয়া, যেমন মণিকর্ণিকা ঘাটে দেখা গিয়েছিল, সেইভাবে যাবতীয় বর্জ্য, কাপড় জামা, পোশাক আশাক, ইচ্ছেমতো ফেলে রেখে আসা যাবে না।