নিজস্ব সংবাদদাতা: আধুনিক নগর জীবনে জঞ্জাল বা কঠিন বর্জ্য পদার্থ মাথাব্যথার কারণ হযে উঠেছে। শহর যত বাড়ছে, মানুষজনের সংখ্যাও তত বাড়ছে। আজকের দিনে এতরকমের খাবার-দাবার কিনে খাওয়া হয়, যা আগে কল্পনাও করা যেত না। প্রসঙ্গত, চিপস থেকে শুরু করে ফাস্টফুড, হরেকরকমে বৈদ্যুতিন গ্যাজেট, কঠিন বর্জ্যের সংজ্ঞাকেই বদলে দিচ্ছে। শহরাঞ্চলে হাজার-হাজার ফ্ল্যাট বাড়ি তৈরি হচ্ছে। আর সেখানে এসে বসবাস করছে মানুষজন। আর তাদের নিত্যদিনের বর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। তরল বর্জ্য পদার্থকে একভাবে প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় কঠিন বর্জ্যকে নিয়ে। যাকে সলিড ওয়েস্ট বলা হয়। একসময়ে ধাপার মাঠ ছিল শহরের বর্জ্যের পাহাড়। কিন্তু, তার জঞ্জাল ধারণের ক্ষমতা কমছে। বলা ভালো, এত বেশি বর্জ্য ধারণ করতে পারছে না সে। স্বভাবতই, অন্যত্র ভাগাড়ের খোঁজ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে, একের-পর-এক ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বসানো হয়েছে ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে। আগের মতো নয়। রাস্তার ধার থেকে জঞ্জাল তুলে বর্জ্য ভর্তি মিউনিসিপ্যালিটির গাড়ি আর রাস্তা নোংরা করে চলে যায় না। নাগরিকদেরও আর জঞ্জালের গন্ধে রুমালে নাক ঢাকতে হয় না। সবমিলিয়ে ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে।

রাজ্যে পালাবদলের পর কঠিন বর্জ্য নিয়ে নতুন করে ভাবনা চিন্তা চলছে। পশ্চিমবঙ্গের পৌরসভা এলাকায় প্রায় ৭৫ হাজার ‘নির্মল বন্ধু’ এবং ৬ হাজার ‘নির্মল সাথী’ বর্জ্য সংগ্রহ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজ শুরু হয়েছে। যুক্ত হয়েছে। পুরসভার লোকজন বাড়ি-বাড়ি গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ করছেন। এবার জঞ্জালে উৎস থেকেই ১০০ শতাংশ বর্জ্য পৃথক করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একদিকে দূষণ প্রতিরোধ আর অন্যদিকে জঞ্জালমুক্ত শহর গড়তে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে রাজ্য। স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় একেবারে অন্য প্রযুক্তিতে বর্জ্য অপসারণের কথা ভাবা হচ্ছে। একইসঙ্গে, বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের এলাকা আরও বাড়ছে রাজ্য জুড়ে। ‘ওয়েস্ট প্রসেসিং প্লান্ট’ চালু হচ্ছে। এ এমন পদ্ধতি, যেখানে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে বর্জ্যের পাহাড় আর দেখা যাবে না। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১৬টি পুরসভা এলাকায় ওয়েস্ট প্রসেসিং প্লান্ট চালু রয়েছে। এই প্লান্টগুলির মাধ্যমে প্রতিদিনের জঞ্জাল প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয় বলে মনে করা হচ্ছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আরও ৬৭টি বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ প্লান্টের নির্মাণকাজ চলছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের মধ্যে এই ৬৭টি প্লান্ট পুরোপুরি চালু করে দেওয়া।

Translate »