নিজস্ব সংবাদদাতা: শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, এ-বছর দেশজুড়েই বন্যার জলে ভেসেছে ঘরবাড়ি। ঠাঁইনাড়া হয়েছে লক্ষ-লক্ষ মানুষ। শুধু বিহারেই ৫০ লক্ষ মানুষ বানের জলে ঘরছাড়া। অসমেও ভয়াবহ বন্যা। দেশের অন্যরাজ্য সরাসরি বন্যা না-হলেও নদীর জল তীর ছাপিয়ে বইছে। তবে আলাদা করে গঙ্গা নদীর কথা উল্লেখ করা দরকার এই কারণেই যে, এ-দেশের বহু জনপদের মধ্যে দিয়ে বয়ে গেয়ে এই নদী। একইসঙ্গে, গঙ্গার উপনদীর সংখ্যাও কম নয়। তাছাড়া, নদীমাতৃক সভ্যতায় দেশজুড়েই নদী বয়ে গেছে। পরিবেশবিদরা মনে করেন, বন্যা যেহেতু প্রাকৃতিক বিপর্যয়, তাই তাকে রুখে দেওয়া সম্ভব নয় মানুষের পক্ষে। কিন্তু, বন্যায় যে-বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়, ঘরবাড়ি, স্কুলবাড়ি, সব ভেসে যায়, তা কিন্তু চাইলে কিছুটাও হলে কমানো যায়।

কীভাবে?
নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গঙ্গা হোক কি পদ্মা, নদীতীরে বসবাস করা চলবে না। তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় কোনও কিছু তৈরি করা যাবে না। যদিও বাস্তবের অভিজ্ঞতা বলছে, দেশের যে-সব রাজ্যের উপর দিয়ে গঙ্গা বইছে, সেই সব রাজ্যে গঙ্গাতীরে নির্মাণ কাজ চলছে। এমনকি, গঙ্গা তীরবর্তী যে বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে বন্যার জল ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সেখানেও নির্মাণ কাজ চলছে। দলমত নির্বিশেষে, যে-সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে, সেই সরকার এই তীববর্তী জায়গায় নির্মাণে ছাড় দেয়। রাজ্য হোক কি কেন্দ্র, চলতি আইন সংশোধন করে গঙ্গাতীরের বন্যাকবলিত এলাকায় যাতে নির্মাণ কাজ চালানো যায়, সেই মর্মে আইন সংশোধন করা হয়েছে। কেন এই আত্মঘাতী পদক্ষেপ, তা বোঝা মুশকিল।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গা এবার ভয়ঙ্কররকম বানভাসি। নদী তীরবর্তী ঘরবাড়ি, স্কুলবাড়ি, চোখের সামনে দিয়ে ধসে পড়ছে। ভেসে যাচ্ছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, নদী তীরবর্তী অঞ্চলে যাঁরা থাকেন, তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে এনে অন্যত্র পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত করা প্রয়োজন। কিন্তু, উল্টে দেখা যাচ্ছে, দেশজুড়ে গঙ্গা তীরবর্তী অঞ্চলে নির্মাণ কাজ চলছে। এমনকি, তা নিয়ন্ত্রণ করার বদলে আরও বেশি নির্মাণ কাজে উৎসাহিত কর হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, পরিবেশকর্মীরা কিন্তু আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। একদিকে যেমন নদী দূষণ নিয়ে তাঁরা সচেতন করছেন মানুষকে, অন্যদিকে, নদী তীবরর্তী অঞ্চলে নির্মাণ কাজ নিয়েও তাঁরা সতর্ক করছেন সরকারকে। প্রসঙ্গত, শুধু নদী নয়, পাহাড়েও যে-হারে নির্মাণকাজ চললছে, তা-ও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। পাহাড়ি এলাকায় ঘন-ঘন হড়পা বান, বাড়িঘর, হোটেল, সবকিছুকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। চোখের সামনে ভেঙে পড়ছে চারতলা হোটেল। তবুও হুঁশ ফিরছে কই?

Translate »