নিজস্ব সংবাদদাতা: গত ৫০ বছর ধরে গঙ্গার দূষণ নিয়ন্ত্রণে অনেক কাঠখড় পোড়ানো হয়েছে। আশির দশকে গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান। তারপর অধুনা নমামি গঙ্গে। তবু, যা হওয়ার তা হয়েই চলেছে। সম্প্রতি এক আরটিআই অ্যাকটিভিস্ট চিঠি পাঠান কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে। নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন থাকে সেই চিঠিতে। তার উত্তরে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ যা জানায়, তা রীতিমতো বিস্ময়কর। গঙ্গার মূলস্রোত বয়েছে চলেছে, এমন পাঁচটি রাজ্যের নিকাশী নালার জল বেশ কিছু পরিমাণ গঙ্গায় এসে মিশছে। ওই পাঁচরাজ্য হল, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ। এই রাজ্যগুলির তরল বর্জ্য পদার্থ পরিশ্রুত হয়ে গঙ্গায় মেশার কথা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তরল বর্জ্য যে-পরিমাণ পরিশ্রুত হওয়ার কথা, তার তিনভাগের একভাগ মাত্র অপরিশ্রুত হয়ে মিশছে গঙ্গায়। ওই পাঁচরাজ্যে, ১১,৭৮৫ মিলিয়ন লিটার তরল বর্জ্য তৈরি হয় প্রতিদিন। এই পাঁচরাজ্যে দূষিত তরল পরিশ্রুত করার ক্ষমতা রয়েছে, ৮ মিলিয়ন লিটারের একটু বেশি। তাই, অতিরিক্ত ৫ মিলিয়ন লিটার তরল বর্জ্য পরিশোধন করার সম্ভব হয় না। তা সোজা গঙ্গায় গিয়ে মেশে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ নির্দিষ্ট করে জানিয়েছে, এই পাঁচরাজ্যের মধ্যে কোন-কোন রাজ্য কতদূর অবধি পরিশোধন করতে পারছে।

পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, গঙ্গার দূষণ রোধে একের-পর-এক কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। সরকার বদলাচ্ছে, কর্মসূচিও বদলাচ্ছে। গালভরা নাম দেওয়া হচ্ছে সেইসব কর্মসূচির। কিন্তু, বাস্তবের মাটিতে কতদূর কী হচ্ছে, তা নিয়ে কিন্তু কেউ মাথা ঘামাচ্ছে না। তাই, সুনির্দিষ্ট করে যদি তথ্য সংগ্রহ করা যায়, তবেই জানার সুযোগ হয়, কীভাবে কী চলছে-না-চলছে। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ সবমিলিয়ে ১১২ টি জায়গায় গঙ্গার জলের মান কেন, তা নজরে রাখে। পর্ষদের নজরে পড়েছে, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন গঙ্গার জল দূষিত হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ, অপরিশুদ্ধ তরল বর্জ্য সোজা গিয়ে মিশছে গঙ্গায়। পরিবেশবিদরা প্রশ্ন তুলছেন, একের-পর-এক কর্মসূচি নেওয়ার পরই কেন এই হাল? মনে করা হচ্ছে. উপর থেকে একটি কর্মসূচি ঘোষণা করলেই চলে নাা, নিচ অবধি গিয়ে দেখতে হয়, কোথায় কীভাবে কতটা কাজ করছে সেই প্রকল্প।

আগুন লাগার ঘটনা বেড়েই চলেছে। হলিউড তারকাদের ঘরবাড়িও পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে। দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে দেশে-বিদেশে। এছাড়া মাত্রাতিরিক্ত তুষারপাত তো রয়েইছে। দেখা যাচ্ছে, দেশে-বিদেশে, নিম্ন আয়ের মানুষজন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এর ফলে। বিশ্বজুড়ে পরিবেশ উদ্বাস্তুদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী ছাউনি করে থাকতে হচ্ছে বহু মানুষকে। আমাদের দেশে বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকার পরিস্থিতি যেদিকে পৌঁছচ্ছে, তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। ধস নামছে, ভেসে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, সেতু, এমনকি, নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প পর্যন্ত। উত্তরাখণ্ড থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, সর্বত্র এই বিপর্যয়। যদিও সর্বত্র সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে. জঙ্গল হোক কি পাহাড়, পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হবে, নইলে বিপদ অনিবার্য। কিন্তু কে কার কথা শোনে। অশনি সঙ্কেত দেখা যাচ্ছে এবার খাস কলকাতাতেও। গঙ্গা তীরবর্তী বাগবাজার থেকে শুরু করে কলকাতার বহু অংশ জলের তলায় তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবু, বিপর্যয় থামছে কই। আমফান, ইয়াস, অর্ণব, প্রতিবছরই একটা-না-একটা ঘূর্ণিঝড় হয়ে চলেছে।

Translate »