নিজস্ব সংবাদদাতা: এতদিন বর্ষাকালে বৃষ্টি পড়েছে, সেই বৃষ্টির জলে মাটি সিঞ্চিত হয়েছে, সেই বৃষ্টির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখেছে মানুষ। এখন কিন্তু আর সেই পরিস্থিতি নেই। বৃষ্টি এখন বড় খামখেয়ালি। তাই, প্রবল বৃষ্টিপাতের পরও কৃষিকাজে পর্যাপ্ত জলের অভাব হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, বৃষ্টিপাত আগের চেয়ে এত শতাংশ কম হচ্ছে, অত শতাংশ কম হচ্ছে। অন্যদিকে, মেঘভাঙা বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে একের-পর-এক জনপদ। এমন বর্ষার সঙ্গে আমরা তো পরিচিত নই। পরিবেশবিদরা তাই বলছেন, প্রবল বৃষ্টি হলে যে তা কৃষিতে কাজে লাগবে এমন নয়। কৃষকরা সমসময়ে চান, ভারসাম্য রেখে বৃষ্টিপাত হোক। সোজা কথায়, একদিন এমন বৃষ্টি হল যে, তা সব ভাসিয়ে নিয়ে গেল। আবার দিনের-পর-দিন বৃষ্টি হল না। এমনটা কিন্তু চান না কৃষকরা।
একদিকে অতিবৃষ্টি হচ্ছে। যা কাজে লাগার বদলে অকাজে লাগছে। অন্যদিকে অনাবৃষ্টি হচ্ছে। অর্থাৎ, যে-সময়ে যে-বৃষ্টি হওয়ার কথা, সেই সময়ে তা হচ্ছে না। এতেও চাষের ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া আরেকটি বিষয় লক্ষ করা যাচ্ছ। বর্ষা ঋতুর বাইরে, এমন কিছু ঋতুতে আচমকা অপ্রত্যাশিত বৃষ্টি হচ্ছে যে, ক্ষেতের ফসল থেকে ফল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষকদের মাথায় হাত পড়ছে। বৃষ্টির এই খামখেয়ালিপনা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে কী করে, তা এখন এক গুরুতর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়ুদূষণ কমাতেও আর বিশেষ ভূমিকা নেয় না বর্ষা। দেখা যাচ্ছে, বর্ষাকালেও ‘স্পাইক’ সিআরইএ-র রিপোর্ট রীতিমতো উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বর্ষাতেও দেশের উত্তর ও দক্ষিণের কয়েকটি এলাকায় ( বায়ুদূষণ) পিএম২.৫-এর মাত্রায় হঠাৎ বৃদ্ধি বা ‘স্পাইক’ দেখা গিয়েছে। দেশের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে উঠে এসেছে হরিয়ানার চরখি দাদরি-র নাম। অগস্টে সেখানে মাসিক গড় পিএম২.৫-এর মাত্রা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৬৮ মাইক্রোগ্রাম। মাসের ৩১ দিনের মধ্যে ১৮ দিনই সেখানে দূষণের মাত্রা ভারতীয় দৈনিক সীমা ছাড়িয়েছিল।
দূষণের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে তামিলনাড়ুর গুম্মিডিপুন্ডি। সেখানে মাসিক গড় পিএম২.৫ ছিল ঘনমিটারে ৬২ মাইক্রোগ্রাম। হরিয়ানা, তামিলনাড়ু ও রাজস্থানের মোট তিনটি শহর ভারতীয় মানদণ্ডে ‘মাঝারি’ দূষণের শ্রেণিতে পড়েছে। বাকি শহরগুলির বেশিরভাগই ছিল ‘ভালো’ বা ‘সন্তোষজনক’ শ্রেণিতে। বর্ষা কি আজ তাহলে মলিনতা ধুইয়ে দিতে পারছে না?