নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রকৃতি ও পরিবেশকে বাঁচাতে আমাদের দেশে কম আন্দোলন হয়নি। আর সেই আন্দোলন শুরু হয়েছে বহুবছর আগে। বর্তমান পরিবেশকে বাঁচাতে এর ইতিহাস খানিক জানলে ভালো হয়। ভারতের পরিবেশ আন্দোলন হলো প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, বন উজাড় রোধ এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য সাধারণ মানুষ ও সামাজিক কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ।
ভারতের প্রধান পরিবেশ আন্দোলনগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- বিষ্ণোই আন্দোলন (Bishnoi Movement): ১৭৩০ সালে রাজস্থানের খেজরালি গ্রামে অমৃতা দেবী-র নেতৃত্বে এই আন্দোলন শুরু হয়। গ্রামের বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের জীবন বাজি রেখে গাছ কাটা রোধ করেছিলেন।
- চিপকো আন্দোলন (Chipko Movement): ১৯৭৩ সালে বর্তমান উত্তরাখণ্ড-এর গাড়োয়াল অঞ্চলে এই বন সংরক্ষণ আন্দোলন গড়ে ওঠে। ঠিকাদারদের হাত থেকে গাছ বাঁচাতে গ্রামবাসী ও নারীরা গাছ জড়িয়ে ধরে প্রতিবাদ জানান। এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন সুন্দরলাল বহুগুনা।
- সাইলেন্ট ভ্যালি আন্দোলন (Silent Valley Movement): ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে কেরালা-র কুন্তিপুঝা নদীর ওপর জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের ফলে সেখানকার ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য ধ্বংসের মুখে পড়ে। এর প্রতিবাদে বিজ্ঞানী ও স্থানীয় জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে প্রকল্পটি বাতিল হয়।
- আপিকো আন্দোলন (Appiko Movement): ১৯৮৩ সালে চিপকো আন্দোলনের আদار কর্ণাটকের উত্তর কন্নড় অঞ্চলে পাণ্ডুরঙ্গ হেগড়ে-র নেতৃত্বে এই বন রক্ষা আন্দোলন শুরু হয়। কন্নড় ভাষায় ‘আপিকো’ অর্থও গাছকে আলিঙ্গন করা।
- নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন (Narmada Bachao Andolan): ১৯৮৫ সাল থেকে মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট ও মহারাষ্ট্রের ওপর দিয়ে প্রবাহিত নর্মদা নদী-র ওপর বিশাল বাঁধ নির্মাণের ফলে বাস্তুচ্যুত ও পরিবেশগত ক্ষতির শিকার হওয়া স্থানীয় মানুষ ও সমাজকর্মীরা এই আন্দোলন শুরু করেন। এর প্রধান নেত্রী ছিলেন মেধা পাটেকর।
- জঙ্গল বাঁচাও আন্দোলন (Jungle Bachao Andolan): ১৯৮২ সালে ঝাড়খণ্ড-এর (তৎকালীন বিহারের সিংভূম জেলা) আদিবাসী সম্প্রদায় সরকারের প্রাকৃতিক শালবন কেটে টিক গাছ লাগানোর নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ফেটে পড়েন।