নিজস্ব সংবাদদাতা: বিশ্বজুড়ে বিশ্ব উষ্ণায়ন। এই পরিস্থিতিতে, আমাদের দেশের দূষণ-চিত্র কীরকম?

  1. বায়ু দূষণ: শিল্পকারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের নিষ্কাশন গ্যাস, নির্মাণকাজের ধুলা, এবং ফসল কাটার পর ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর ফলে ভারতের বায়ুর মান ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে দিল্লি এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পিএম ২.৫ (PM2.5) <5.6> কণার মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বহুগুণ বেশি।
  2. জল দূষণ: অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য, পৌরসভার নর্দমার নোংরা পানি এবং গৃহস্থালির বর্জ্য সরাসরি নদী ও জলাশয়ে পড়ার ফলে প্রধান নদীগুলো দূষিত হচ্ছে। এর ফলে নিরাপদ পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে।
  3. বর্জ্য অব্যবস্থাপনা: শহর ও গ্রামীণ এলাকায় সঠিক উপায়ে আবর্জনা অপসারণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাব রয়েছে। এর ফলে যত্রতত্র আবর্জনা জমে মাটি ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
  4. মৃত্তিকা দূষণ: অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং কৃষিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা কমছে এবং মাটিতে ভারী ধাতুর পরিমাণ বাড়ছে।

প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতি:

  • জনস্বাস্থ্য: তীব্র বায়ু ও জল দূষণের কারণে ফুসফুসের রোগ, হাঁপানি, হৃদরোগ এবং ক্যানসারের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, বায়ু দূষণের কারণে ভারতে মানুষের গড় আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।
  • অর্থনৈতিক ক্ষতি: অসুস্থতা জনित কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া এবং চিকিৎসাব্যয়ের উচ্চমূল্যের কারণে দেশের জিডিপি (GDP)-র ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রতিকার ও পদক্ষেপ:

  • জাতীয় পরিষ্কার বায়ু কর্মসূচি: সরকার বায়ু দূষণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং জাতীয় পরিষ্কার বায়ু কর্মসূচি (NCAP) গ্রহণ করেছে।
  • নবায়নযোগ্য শক্তি: জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌর ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এতদিন বর্ষাকালে বৃষ্টি পড়েছে, সেই বৃষ্টির জলে মাটি সিঞ্চিত হয়েছে, সেই বৃষ্টির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখেছে মানুষ।
Translate »