নিজস্ব সংবাদদাতা: মোটের উপর সবাই এ-কথা জেনে গেছি যে, বড়-ছোট মিলিয়ে এদেশের কয়েকশো শহর নিকাশী নালা দিয়ে কী পরিমাণ বর্জ্য ফেলে গঙ্গায়। আর তার ফলে গঙ্গা দূষণ কীভাবে বেড়ে চলে। কিন্তু প্রশ্ন হল, জ্ঞানপাপী হয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকব নাকি গঙ্গার দূষণ রোধে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ করব। কানপুরের একটি সংস্থা ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে। ওই সংস্থার গবেষকরা দেখিয়েছেন, শুধু বর্জ্য পরিশাধন করে নদীতে ফেললেই হবে না। ওই বর্জ্য থেকে শক্তি বা এনার্জি উৎপাদন করতে যাবে।

পরিবেশবিদরা বলছেন, কেন্দ্রীয় সরকার এখন চাইছে, বর্জ্য থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হোক। আর, সেই মতো পদক্ষেপও করছে। বিভিন্ন রাজ্যও ধীরে-ধীরে সেই পথে হাঁটা শুরু করেছে। কানপুরের সংস্থা যে-গবেষণা চালিয়েছে, তারও লক্ষ্য ঠিক এমনই— বর্জ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করা ও তারপর পরিশুদ্ধ অংশ নদীতে ফেলা। গবেষক মহল বলছে, বিশ্বের বহু দেশই এখন এই পথে হাঁটছে। দ্রুত নগরায়ণের ফলে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। কঠিন বর্জ্য ও তরল বর্জ্য, দুইই। এই বর্জ্য পরিশোধন মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে পৌরসভার কাছে। তাই, মূলত কঠিন বর্জ্য ও তার সঙ্গে তরল বর্জ্য থেকে যদি রিনিউয়েবল এনার্জি বা পুনর্নবীকরণ যোগ্য শক্তি বা এনার্জি তৈরি করা যায়, তাহলে গঙ্গার দূষণও নিয়ন্ত্রিত হবে, সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনও হবে।

এ প্রসঙ্গে অনেকেই মনে করাচ্ছেন, প্রাকৃতিক উপায়ে কীভাবে নিকাশী নালার জলকে পরিশুদ্ধ করা যায়, বিশ্বের কোথাও-কোথাও তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলেছিল। আর, নব্বই দশকের শেষের দিকে কলকাতার তারাতলা অঞ্চলের একটি সংস্থা সেই প্রক্রিয়ায় দূষিত তরল বর্জ্যকে স্বচ্ছ জলে রূপান্তরিত করেছিল। নালার নোংরা জল প্রথমে একটা স্তর থেকে আর একটা স্তরে গিয়ে পৌঁছবে। সেই জলও দূষিত, কিন্তু দূষণের মাত্রা কিঞ্চিৎ কম। তারপর, ওই জল আরও একটি স্তরে গিয়ে পৌঁছবে। সেই স্তরে জলের দূষণ আর একটু কমবে। এইভাবে বেশ কয়েকটি ধাপে যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে ওই নালার নোংরা জল একটা জায়গায় এসে পড়বে, তখন তা স্বচ্ছ ও দূষণহীন। মোদ্দা কথা হল, বিপুল পরিমাণ দূষিত বর্জ্য, সে তরল হোক কি কঠিন, তাকে শুরুতেই এনার্জিতে রূপান্তরিত করতে হবে। তারপর ওই জল অনেকটাই পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে। সেই পরিশুদ্ধ জল গঙ্গায় ফেলা হবে। গঙ্গাও বাঁচবে, বিকল্প শক্তি বা এনার্জিও তৈরি হবে।

Translate »