নিজস্ব সংবাদদাতা: মেরিন সার্ভিসেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা রেকর্ড ২০.৯৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রধান কারণ:

  • গ্রিনহাউস গ্যাস: মানবসৃষ্ট কারণে বাতাসে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে। এর ফলে বায়ুমণ্ডলে যে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয়, তার প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি শোষণ করে নিচ্ছে মহাসাগর।
  • শিল্পায়ন ও দূষণ: কলকারখানার ধোঁয়া এবং নানা ধরনের দূষিত কণা জলবায়ুকে দ্রুত উষ্ণ করে তুলছে, যা সমুদ্রের জলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
    সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ক্ষতিকর প্রভাব কী, একবার দেখে নেওয়া যাক।* সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ: সমুদ্রের জল অস্বাভাবিক গরম হওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ তৈরি হচ্ছে।
  • প্রবাল: অতিরিক্ত উষ্ণতার কারণে সংবেদনশীল প্রবাল ও সামুদ্রিক ইকোসিস্টেম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।* তীব্র ঘূর্ণিঝড়: উষ্ণ সমুদ্রের জলের কারণে ঘূর্ণিঝড়গুলো আরও বেশি শক্তিশালী ও ঘন ঘন রূপ নিচ্ছে।
  • সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি: তাপমাত্রা বাড়লে গ্লেসিয়ার গলে সমুদ্রের জলের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে, যা উপকূলবর্তী এলাকার জন্য বড় বিপদ ডেকে আনছে।

প্রতিকার বা রোধে করণীয়:

  • একবার ব্যবহারযোগ্য ( Single Use)প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করা।
  • শিল্প-কারখানার বর্জ্য সমুদ্রে ফেলার আগে পরিশোধন করা।
  • সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সমুদ্র সৈকত পরিষ্কার রাখা। সমুদ্র দূষণের নানা কারণ রয়েছে। যেমন, ক্ষতিকর বর্জ্য, প্লাস্টিক, রাসায়নিক এবং শিল্প-কারখানার ময়লা-আবর্জনা সমুদ্রে মিশে যাওয়া।
  • প্লাস্টিক বর্জ্য: প্রতিবছর প্রায় ১৪ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য নদী ও নর্দমার মাধ্যমে সমুদ্রে গিয়ে জমা হয়।
  • শিল্প বর্জ্য ও রাসায়নিক: কারখানা থেকে আসা বিষাক্ত রাসায়নিক এবং তেলবাহী জাহাজ থেকে তেল চুইয়ে পড়ার কারণে জল দূষিত হয়।
  • নর্দমা ও পয়ঃনিষ্কাশন: শহরের ঘরবাড়ির ময়লা ও অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি নদীর মাধ্যমে সাগরে পড়ে। যা বন্ধ হওয়া দরকার।
Translate »