নিজস্ব সংবাদদাতা: ম্যানগ্রোভ বা বাদাবন আজ বিপন্ন। ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে সুন্দরবনকে রক্ষা করবে কে? যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওশ্যানোগ্রাফি একটি গবেষণার কাজ করেছে দীর্ঘদিন ধরে। সেই গবেষণা থেকে দেখা গেছে, ১৯৮৬ সালে সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপ সংলগ্ন অঞ্চলে যে পরিমাণ বাদাবন ছিল, তার তুলনায় বর্তমানে সেই বাদাবনের পরিমাণ অনেকটাই কম। পরিবেশ নিয়ে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরাও লক্ষ করেছেন, ৫০ বছর আগে যে-পরিমাণ বাদাবন ছিল সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপে এখন সেই বাদাবন বেশ কিছুটা অ-দৃশ্য হয়ে গেছে। পঞ্চাশ বছরের আগের তুলনায় এই হারিয়ে যাওয়ার পরিমাণ কোথাও ২০ শতাংশ, কোথাও-বা ২৫ শতাংশ। পরিবেশবিদরা বলছেন, আয়লা থেকে শুরু করে একের-পর-এক ঝড় ঝাপটার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে সুন্দরবন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। সেখানকার মানুষজনের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাদাবন তথা গাছগাছালি যত বেশি কমছে তত বেশি ঝড়ের ঝাপট এসে পড়ছে সেখানকার মানুষজনের ঘর-সংসারে। আগেও ঝড় আসত। বিভিন্ন উপকূল অঞ্চলে সেই ঝড় আছড়ে পড়ত। কিন্তু, বিপুল পরিমাণ গাছ বা জঙ্গল সেই ঝড়ের প্রথম ঝাপটা সহ্য করত। তার ফলে লোকালয়ে যখন আছড়ে পড়ত ঘুর্ণিঝড়, দাপট অনেকটাই কমতো।
সুন্দরবনও সেভাবে ঝড়ের দাপট থেকে কিছুটা বাঁচত। এমনকি, গ্রাম ছাড়িয়ে মফস্বল বা শহরেও তার যেটুকু যা দাপট, তা কম থাকত। কিন্তু, এখন সর্বত্র একই সমস্যা। ইউনেসকোর স্বীকৃতি প্রাপ্ত সু্ন্দরবন যেমন বিপন্ন হয়ে পড়েছে, বিভিন্ন উপকূলবর্তী অঞ্চলেরও সেই একই দশা হয়েছে। সম্প্রতি যে সব ঘূর্ণিঝড় দেখলাম আমরা, সেগুলো স্থলভাগে যখন আছড়ে পড়ছে (ল্যান্ডফল), তখন তা প্রবলভাবে তছনছ করে দিচ্ছে চারপাশ। পরিবেশবিদরা বলছেন, জল-জঙ্গল-জমি যত বিপন্ন হচ্ছে ততই বাড়ছে ঝড়ের দাপট। আগে, ঘন জঙ্গল, গাছগাছালি, বাদাবন, অতিক্রম করে স্থলভাগে যখন আছড়ে পড়ত ঘূর্ণিঝড়, তার গতিবেগ অনেকটাই কম থাকত। তাই, ক্ষয়ক্ষতিও কম হতো।
এখন? নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনছে মানুষ। আরও নির্দিষ্ট করে বলতে হলে, শহুরে লোকজনের আমোদ-প্রমোদ, বিলাসব্যসনের জন্য উপকূলবর্তী গ্রামের হত দরিদ্র মানুষগুলোর জীবন তছনছ হয়ে যাচ্ছে। ঝড়ের পর আশ্রয় ও আয়ের খোঁজে ভিনরাজ্যে যেতে হচ্ছে সেখানকার মানুষজনকে।