নিজস্ব সংবাদদাতা: সবাই দেখছিল। কিন্তু এক-পা এগিয়ে কিছু করার কথা ভাবেনি কেউ। কিন্তু, সবাইয়ের ভিড়ে লুকিয়ে থাকে কেউ-কেউ। যারা ভাবে, যারা কিছু করে। যেমন বিকাশ চন্দ্রা। বেওয়ারিশ মরদেহ নিত্যদিন গঙ্গায় ফেলা হচ্ছিল। ফেলছিল বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ। ডাক্তারি পড়ুয়াদের জন্য শবব্যবচ্ছেদ করা হয় মেডিকেল কলেজে। ক্লাস হয়ে যাওয়ার পর সেই দেহ সোজা গঙ্গায় ফেলা হয়। যদিও, দেশের নিয়ম রীতি অনুযায়ী তা করা যায় না। মাঝবয়সি বিকাশ চন্দ্রার নজরে আসে বিষয়টি। তবে, তারও একটা ইতিহাস রয়েছে।

১৯৯৮ সালের কথা। নিকাশী তরল ভেসে বেড়ানো গঙ্গার এক পাড়ে এক বৃদ্ধ স্নান করছিলেন। চন্দ্রা বিস্মিত হন। বৃদ্ধকে প্রশ্ন করেন। বৃদ্ধ উত্তর দেন, তাঁর মৃত স্ত্রীর শেষকৃত্য করছেন তিনি। গঙ্গার অন্য এক পাড়ে গেলে জল কিছুটা স্বচ্ছ থাকে ঠিকই, তবে নৌকা করে সেখানে যাওয়ার মতো আর্থিক সঙ্গতি নেই তাঁর। কারণ, নৌকা ভাড়া করতে ৩০০ টাকা লাগবে। এই ঘটনা ভাবিয়ে তোলে চন্দ্রাকে। না, এভাবে তো চলতে পারে না। গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে হবেই। অন্তত, তাঁর নিজের শহরে। কীভাবে দূষণমুক্ত করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করলেন চন্দ্রা। কেনই-বা এত দূষণ, তা নিয়েও ভাবতে শুরু করেন চন্দ্রা। কারণ খুঁজতে গিয়ে প্রথমে তাঁর নজরে আসে একটি বিষয়। বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ অশনাক্ত দেহ ব্যবচ্ছেদ করার পর তা সোজা গঙ্গায় ফেলে দেয়। তথ্যের অধিকার আইনে চিঠি দিয়ে চন্দ্রা জানতে পারেন, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দেশজুড়ে ৭০ হাজার অশনাক্ত দেহ গঙ্গায় ফেলা হয়!

গঙ্গাদূষণ প্রতিরোধে একের-পর-এক সরকারি কর্মসূচি কি তাহলে ব্যর্থ? প্রশ্ন জাগে চন্দ্রার মনে। ২০০০ সালে তিনি শুরু করেন— গঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন। এরপর আদালতে জনস্বার্থ মামলা করেন চন্দ্রা। দূষণমুক্তির প্রশ্নে আদালতের রায় তাঁর পক্ষে যায়। একজন পরিবেশ-যোদ্ধা হয়ে ওঠেন তিনি। অনশনেও বসেন। অবশেষে অশনাক্ত দেহ গঙ্গায় ফেলা বন্ধ হয়। শুধু অশনাক্ত দেহই নয়। সেই সঙ্গে তরল বর্জ্য যাতে পরিশোধন করে গঙ্গায় ফেলা হয়, সেই দাবিতেও শুরু হল আন্দোলন। চন্দ্রা তাঁর স্বেচ্ছাসেবকদের সরাসরি ময়দানে নামলেন। চন্দ্রার কথায়, “আমি কখনও সরকারি অর্থ সাহায্য পাইনি, নিইনি। মানুষ হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। এগিয়ে এসেছিলেন স্বেচ্ছাসেবকরা। তাঁদের সহযোগিতায় আমি কাজ করে চলেছি”

Translate »