নিজস্ব সংবাদদাতা: এতদিন আমরা জানতাম, গঙ্গার প্রবাহপথে যে সব শহর বা জনপদ রয়েছে, সেগুলোই গঙ্গার দূষণের জন্য দায়ী। কিন্তু, এখন দেখা যাচ্ছে, শুধু তীরবর্তী জনপদ নয়, অববাহিকা সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকাও দূষণের জন্য সমানভাবে দায়ী। একটা দৃষ্টান্ত দেওয়া যাক। মীরাট কিন্তু গঙ্গার মূল স্রোতের ধারের পাশে নেই। সেখান থেকে গঙ্গা দেখা পর্যন্ত যায় না। তবুও, সেখানকার নিকাশী নালা দিয়ে তরল বর্জ্য শেষ পর্যন্ত গঙ্গায় গিয়ে মেশে। ন্যাশানাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা কর্তৃপক্ষ এই তথ্য দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, গঙ্গা তীরবর্তী শহরগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু, তীরবর্তী নয়, এমন সব জনপদ নিয়ে সেভাবে ভাবা হচ্ছে না।
তবে আশার কথা এই যে, ‘নমামী গঙ্গে’ কিন্তু এইসব জায়গার উপর নজর দিচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, মিরাট আড়ে-বহরে অনেক বেড়েছে, দ্রুত নগরায়ন হয়েছে সেখানে। কিন্তু নিকাশী ব্যবস্থায় সেভাবে কোনও পরিবর্তন আসেনি। বলা ভালো, দ্রুত বাড়তে থাকা শহরের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি সেখানকার নিকাশী ব্যবস্থা। তবে হ্যাঁ, দেরিতে হলেও সেখানকার নিকাশী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হতে চলেছে। ২০২০ সালে সেখানে ৬৯১ কোটি টাকার সিউয়ারেজ প্রোজেক্ট শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজে গতি এসেছে ২০২৪ সালে। কাজ এখনও চলছে। প্রতিদিন ২২০ মিলিয়ন লিটার তরল বর্জ্য পরিশুদ্ধ করার জন্য ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরি হচ্ছে। প্রসঙ্গত, অনেক জায়গাতেই এখন তরল বর্জ্যকে পুনরায় ব্যবহার করার পদ্ধতি শুরু হয়েছে। মীরাটেও সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল, শহরে যত নিকাশী নালা আছে, সেগুলো কোনও একজায়গায় এসে পড়বে। কোনওভাবেই গঙ্গায় এসে মিশবে না। মিশলেও তা পরিশুদ্ধ হয়েই মিশবে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, মীরাটের মতো বড় শহর, যা গঙ্গা অববাহিকায় অবস্থিত, সেখান থেকে নির্গত তরলের প্রতিটা বিন্দুকে নিয়ে ভাবতে হচ্ছে এখন। নিম্ন প্রবাহে এর প্রভাব ভালোই টের পাওয়া যায়। বলা হচ্ছে, গঙ্গা শুধুই একটা নদী নয়, এটা একটা প্রক্রিয়া, একটা ব্যবস্থা, একটা সিস্টেম। এই সিস্টেম তখনই বদলাবে তখনই যখন প্রতিটা শহর তাদের সিস্টেমকে পাল্টাবে। ন্যাশানাল গঙ্গা মিশন, গঙ্গাকে পরিশুদ্ধ করতে এবার অববাহিকা অঞ্চলের ওপর জোর দিচ্ছে বেশি। গঙ্গা তীরবর্তী জনপদের চেয়ে মীরাটের মতো জায়গাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ এতদিন তীরবর্তী জনপদের প্রতি অনেক নজর দেওয়া হয়েছে। অবহেলিত থেকে যাচ্ছে অববাহিকা অঞ্চল।