নিজস্ব সংবাদদাতা: আলিপুরদুয়ার জেলার একটি চা বাগানের ৭০ বছর বয়সী এক বাসিন্দাকে উদ্ধার করেছেন বনকর্মীরা। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি পথ হারিয়ে বুনো হাতির পালের কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। আলিপুরদুয়ারের জলদাপাড়া বন্যপ্রাণী বিভাগের অন্তর্গত ধুমচি বনাঞ্চল-সংলগ্ন এলাকা ‘ছেকামারি’-তে এই ঘটনাটি ঘটেছে। মুজনাই চা বাগানের বাসিন্দা সুখমনি ওঁরাও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক পরিচিতের বাড়ি থেকে ফিরছিলেন। অন্ধকারে পথ হারিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে এদিক-সেদিক ঘুরতে থাকেন। অবশেষে তিনি ভুলবশত ছেকামারি এলাকায় ঢুকে পড়েন, যেখানে ধুমচি জঙ্গল থেকে বুনো হাতির একটি দল এসে পৌঁছেছিল। হাতির পালের গতিবিধি সম্পর্কে খবর পেয়ে বনকর্মীরা ওই এলাকার দিকে রওনা দেন।

যাওয়ার পথে বনকর্মীদের দলটি লক্ষ্য করল, এক বৃদ্ধা অন্ধকারে একা একা ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং হাতির পালের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন। বনকর্মীদের গাড়ির হেডলাইটের আলোয় দেখা যায় ওই বৃদ্ধাকে। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থামিয়ে ওই মহিলার সঙ্গে কথা বলেন বনকর্মীরা। ততক্ষণে অন্ধকারে দীর্ঘ সময় ধরে হেঁটে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। বনকর্মীরা বুঝতে পারেন যে মহিলা পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি বুঝতেও পারেননি না যে, তিনি বুনো হাতির বিচরণ ক্ষেত্রে ঢুকে পড়েছেন।

এরপর তাঁকে গাড়িতে বসিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেন তাঁরা । ততক্ষণে বৃদ্ধার চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, পথ হারিয়ে এক বিপজ্জনক এলাকায় চলে এসেছেন। অবশেষে বনকর্মীদের দেখে তিনি স্বস্তি বোধ করেন। প্রসঙ্গত, ওই বনাঞ্চলে হাতি ছাড়াও অন্যান্য বন্য প্রাণী রয়েছে। তাই যে কোনো মুহূর্তে একটা অঘটন ঘটতে পারতো। ওই বৃদ্ধাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে বন বিভাগের কর্মীরা ফের জঙ্গলে ফিরে যান। ওই হাতির পালটিকে তাড়িয়ে ফের বনের গভীরে নিয়ে যান। ঊর্ধ্বতন বন কর্মকর্তারা ওই দলটির কাজের প্রশংসা করেন। এক আধিকারিক বলেন, “ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়ার সময় আমাদের কর্মীরা অন্ধকারে এক বৃদ্ধাকে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। তাঁরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করেন। তা না হলে তাঁর বড় বিপদ ঘটতে পারত। সময়োচিত পদক্ষেপের জন্য আমরা আমাদের কর্মীদের নিয়ে গর্বিত।”

Translate »