নিজস্ব সংবাদদাতা: ভাগ্যিস সবাই সবার মতো হয় না। কেউ কেউ স্বতন্ত্র পথে হেঁটে ছাপ রেখে যায়। যেমনটা রেখেছেন পাঞ্জাবের জবানদীপ সিং। মোটা মাইনের একটা চাকরি জোটানো কঠিন ছিল না তাঁর কাছে। এমনকি বিদেশে গিয়ে ডলার রোজগার করাও কঠিন ছিল না তাঁর কাছে। কিন্তু সে পথ ধরলেন না মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার জবানদীপ সিং। যে-পথ ধরেছিলেন তাঁর বন্ধুরা। মেরেকেটে কয়েকমাস চাকরি করেছিলেন তিনি। তারপর চাকরি ছেড়ে সোজা নিজের গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন জবানদীপ। অমৃতসরের মালাখেড়ি গ্রামে এসে পারিবারিক জমিতে শুরু করেন চাষের কাজ। শুধু চাষ নয়, বলা ভালো, কৃষিভিত্তিক ব্যবসার ভাবনা নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন জবানদীপ। তাই, অল্প জমিতে যতরকমের ফসল ফলান যায়, তিনি তার চেয়ে বেশি ফসল ফলিয়েছেন। সেই সঙ্গে নিজের আলাদা কাস্টমার বেস তৈরি করেছেন। পারিবারিক ১২ একর জমির ভাগাভাগির পর চাষের জন্য ৫ একর জমি পেয়েছিলেন জবানদীপ। শুরুতেই সেই ৫ একরে চাষ করতে শুরু করেননি তিনি। শুরুতে ১ একর জমির সিকিভাগ নিয়ে সেখানে হলুদ চাষ শুরু করেন তিনি। তারপর খারিপের মরসুমে ১ একর জমিতে বাসমতী চাষ আর রবির মরসুমে ১ একর জমিতে গমের চাষ শুরু করেন জবানদীপ।
এইভাবে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে গিয়ে একটা সময়ে পশুপালন, পোলট্রি, সবই শুরু করেন ওই জমিতে। তারপর জোয়ার-বাজরা থেকে শুরু করে পশুখাদ্য, এক এক করে অনেককিছুর চাষ করেন তিনি। আমরা তিনফসলা জমির কথা বলি, অর্থাৎ, একই জমিতে একবার ধান, ধানকাটার পর একবার সবজি, তারপর আরও একটা কিছু চাষ। জবানদীপ আরও এক ধাপ এগিয়ে, ৫ একর জমিকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে কত ফসলি জমিতে যে পরিণত করেছিলেন, তা বলে শেষ করা যাবে না। এখন ৫ একরের মধ্যে ৪ একরে জৈব চাষ করেন জবানদীপ। পাঞ্জাবজুড়ে যেমন গম আর ধানচাষ হতে থাকে, সেই পথে না-গিয়ে, নিজের ৫ একর জমিকে অনেকগুলো ছোট-ছোট জোতে পরিণত করেছেন তিনি। সহজ কথায়, ওই ৫ একরকে কার্যত অনেক একর জমিতে পরিণত করেছেন তিনি। যেন বহু একর জমি রয়েছে তাঁরা কাছে। এখন ৩০-এর কোঠায় বয়স জবানদীপের। যদিও তাঁর বিচক্ষণতা দেখে মনে হয়, ৩০ বার এই জমিতেই যেন জন্ম নিয়েছেন জবানদীপ।