নিজস্ব সংবাদদাতা: সয়াবিন প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (SOPA) জানিয়েছে যে, চলতি খরিফ মরসুমে বেশ কিছু অঞ্চলে খরা-সদৃশ পরিস্থিতি হওয়া সত্ত্বেও ভারতে সয়াবিন উৎপাদন সামান্য কমে ১০৭.৯৩ লক্ষ টন হতে পারে, যা আগের তুলনায় ২.১১ শতাংশ কম। সংগঠনটির প্রথম ফসল প্রাক্কলন(আনুমানিক হিসাব) প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে উৎপাদন বৃদ্ধি মহারাষ্ট্রে ফসলের ক্ষয়ক্ষতিকে অনেকাংশে পুষিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। শনিবার ইন্দোরে অনুষ্ঠিত ‘সোপা’ (SOPA)-এর আন্তর্জাতিক সয়াবিন সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। সয়াবিন একটি গুরুত্বপূর্ণ তৈলবীজ ফসল, যা থেকে ভোজ্য তেল পাওয়া যায় এবং এটি গবাদি পশু ও পোল্ট্রি শিল্পের জন্য প্রোটিনের উৎস হিসেবে কাজ করে। সামগ্রিক উৎপাদন আগের মৌসুমের তুলনায় ২.১১ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, জানিয়েছে সংগঠনটি।
মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানায় ফসলহানির কারণ হিসেবে দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং ফসলের বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে আর্দ্রতার অভাবকে দায়ী করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই তিন রাজ্যে মোট ৭.০২ লক্ষ হেক্টর জমিতে রোপণ করা সয়াবিন ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে এবং তা আর ঘরে তোলা সম্ভব হয়নি। এসওপিএ (SOPA)-এর নির্বাহী পরিচালক ডি এন পাঠক পিটিআই-কে জানিয়েছেন, “মধ্যপ্রদেশে এবার সয়াবিনের ফলন ভালো হয়েছে। রাজস্থানেও ফলন ভালো পাওয়া গেছে। উভয় রাজ্যেই উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় মহারাষ্ট্রের ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে গেছে। এছাড়া, আগের মৌসুমের(season) তুলনায় সারা দেশে সয়াবিন চাষের আওতাধীন জমির পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ হেক্টর বেড়েছে।” এসওপিএ (SOPA)-এর প্রাক্কলন(আনুমানিক হিসাব)প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বৃহত্তম সয়াবিন উৎপাদনকারী রাজ্য মধ্যপ্রদেশে এবার উৎপাদন ৫৭.১৬ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে, যা গত বছরের ৪৩.২৪ লাখ টনের তুলনায় ৩২.২ শতাংশ বেশি।
রাজ্যটিতে সয়াবিন চাষের আওতাধীন এলাকা এক বছর আগের ৪৮.৬৪ লক্ষ হেক্টর থেকে বেড়ে ৫২.০৯ লক্ষ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গড় ফলন প্রতি হেক্টরে (বা ২.৪৭১ একরে) ৮৮৯ কেজি থেকে বেড়ে ১,১০৮ কেজি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্রে উৎপাদন ৩৩.২ শতাংশ কমে ৩৪.৮৮ লক্ষ টন হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে; অন্যদিকে, রাজস্থানে উৎপাদন ৪৮.২ শতাংশ বেড়ে ৯.৪৭ লক্ষ টনে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি খরিফ মৌসুমে ১১৭.৭৩ লক্ষ হেক্টর জমিতে সয়াবিন বপন করা হয়েছে, যা ২০২৫ সালে নথিভুক্ত ১১২.১৪ লক্ষ হেক্টরের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। তবে, মাটিতে আর্দ্রতার অভাব এবং খরার পরিস্থিতির কারণে ৭.৭৬ লক্ষ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত ফসল সংগ্রহের আওতাভুক্ত জমির পরিমাণ কমে ১০৯.৯৮ লক্ষ হেক্টরে নেমে এসেছে বলে এসওপিএ (SOPA) জানিয়েছে। ফসল সংগ্রহের আওতাভুক্ত জমিতে হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৯৮১ কেজি হবে বলে হিসাব করা হয়েছে। সেই হিসেবে, মোট সয়াবিন উৎপাদনের পরিমাণ ১০৭.৯৩ লক্ষ টন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, আগের খরিফ মৌসুমে মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১১০.২৬ লক্ষ টন এবং তখন হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ছিল ৯৮৩ কেজি।