নিজস্ব সংবাদদাতা: আদিগঙ্গার দূষণ ভাবিয়ে তুলছে। রাজ্যের সবচেয়ে দূষিত নদীগুলির অন্যতম হল আদিগঙ্গা। তারপরেই রয়েছে দামোদরের নাম। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সমীক্ষা তেমনটা জানাচ্ছে। আদিগঙ্গার একটা অংশে খাল কেটে টালিনালা তৈরি করা হয় ইংরেজ আমলে। এই আদিগঙ্গা দিয়েই একসময়ে চাঁদ বণিকের বাণিজ্যতরী যাতায়াত করতো। সে এক দীর্ঘ ইতিহাস। কালে-কালে সেই আদিগঙ্গা মজে যায়। এক দুর্গন্ধময় নালায় পরিণত হয়। ফিরে আসা যাক নদীদূষণের কথায়। বাংলায় ও বাংলার বাইরের নদীর কথায়। দূষিত নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে হুগলি, চূর্ণী, দামোদর, জলঙ্গি, মাথাভাঙ্গা, বরাকর, দ্বারকেশ্বর, দ্বারকা, রূপনারায়ণ, তিস্তা, বিদ্যাধরী, কাসাই, শীলাবতি, কালজানি, ময়ূরাক্ষী, করোলা। বিভিন্ন জায়গা থেকে নদীর জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কোথাও অত্যধিক দুর্গন্ধ, কোথাও রাসায়নিক উপাদান, কোথাও বা অন্যকিছু। সবমিলিয়ে, জলের মান কোথাও ভালো নয়। বিস্তীর্ণ জনপদের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হুগলি নদীর অবস্থা ভাবিয়ে তুলেছে। দেখা যাচ্ছে, তরল বর্জ্য পরিশুদ্ধ না-করেই সোজা নদীতে ফেলা হচ্ছে। তাই এত দূষণ। যথাযথভাবে পরিশোধন না-করে তরল বর্জ্য মেশায় বাংলার নদীগুলির নিজস্ব বাস্ততন্ত্র নষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও, নদীর সংলগ্ন জায়গায় জবরদখল, পলি পড়ে যাওয়া তো রয়েইছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, শিল্পাঞ্চলের তরল বর্জ্য যথাযথভাবে পরিশুদ্ধ না-করেই নদীতে ফেলা হচ্ছে। সেই কারণেই এই দূষণ।

এই ক্রোমিয়ান কিন্তু খুব-একটা নিরীহ কিছু নয়। রীতিমতো কার্সিনোজেনিক। ক্যানসারের কারণ। প্রসঙ্গত, ছোট-বড় মিলিয়ে এদেশের কয়েকশো শহর নিকাশী নালা দিয়ে কী পরিমাণ বর্জ্য ফেলে গঙ্গায়। আর তার ফলে গঙ্গা দূষণ কীভাবে বেড়ে চলে। কিন্তু প্রশ্ন হল, জ্ঞানপাপী হয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকব নাকি গঙ্গার দূষণ রোধে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ করব। কানপুরের একটি সংস্থা ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে। ওই সংস্থার গবেষকরা দেখিয়েছেন, শুধু বর্জ্য পরিশাধন করে নদীতে ফেললেই হবে না। ওই বর্জ্য থেকে শক্তি বা এনার্জি উৎপাদন করতে যাবে। পরিবেশবিদরা বলছেন, কেন্দ্রীয় সরকার এখন চাইছে, বর্জ্য থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হোক। আর, সেই মতো পদক্ষেপও করছে। বিভিন্ন রাজ্যও ধীরে-ধীরে সেই পথে হাঁটা শুরু করেছে। কানপুরের সংস্থা যে-গবেষণা চালিয়েছে, তারও লক্ষ্য ঠিক এমনই— বর্জ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করা ও তারপর পরিশুদ্ধ অংশ নদীতে ফেলা।

Translate »