নিজস্ব সংবাদদাতা: উত্তরপ্রদেশ সরকারের ‘রুফটপ গার্ডেনিং স্কিম’ (ছাদে বাগান করার প্রকল্প) হলো একটি নগর উদ্যানপালন উদ্যোগ। যার লক্ষ্য, শহরের বাসিন্দাদের বাড়ির অব্যবহৃত ছাদের জায়গা ব্যবহার করে টাটকা শাকসবজি, ফলমূল, ভেষজ, মশলা এবং ঔষধি গাছ চাষে উৎসাহিত করা। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো শহরাঞ্চলে সবুজায়নের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি ছোট পরিসরে খাদ্য উৎপাদনের ব্যবস্থাকে প্রতিটি পরিবারের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা। প্রাথমিকভাবে লখনউ, বারাণসী ও রক্ষপুরসহ বড় শহরগুলোতে একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যেখানে বারাণসীর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ভেজিটেবল রিসার্চ (IIVR) কারিগরি সহায়তা প্রদান করে। পরবর্তীতে এই কর্মসূচিটি অন্যান্য শহরাঞ্চলেও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। আর্থিক সহায়তা ও বাগান করার সরঞ্জাম (গার্ডেনিং কিট) দিয়েও এই প্রকল্পে উৎসাহিত করা হচ্ছে। উত্তর প্রদেশে বর্তমানে ২০২৬-২৭ সালের যে কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে, তার আওতায় যোগ্য শহুরে বাসিন্দারা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যের একটি ‘রুফটপ গার্ডেনিং কিট’ (ছাদে বাগান করার সরঞ্জাম-সামগ্রীর সেট) পেতে পারেন। এই কিটটির উদ্দেশ্য হলো ছাদে বাগান গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক উপকরণ সরবরাহ করা; এর মধ্যে রয়েছে গ্রো ব্যাগ, বীজ, কোকোপিট, চারাগাছ বড় করার মাধ্যম এবং বাগান করার বিভিন্ন সরঞ্জাম।
উদাহরণস্বরূপ, গৌতম বুদ্ধ নগরে উদ্যানপালন বিভাগ ২০২৬–২৭ সালে ৪০০টি রুফটপ গার্ডেনিং কিট (ছাদে বাগান করার সরঞ্জাম) বিনামূল্যে বিতরণের ঘোষণা করেছে। আবেদনকারীদের ছাদে অন্তত ১০০ বর্গফুট জায়গা থাকা আবশ্যক ছিল এবং ‘আগে এলে আগে পাবেন’ ভিত্তিতে এই কিটগুলো বরাদ্দ করা হয়েছিল। এই প্রকল্পটি মূলত এমন শহুরে বাসিন্দাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাদের বাড়ির ছাদে উপযুক্ত জায়গা রয়েছে। সুবিধাভোগীর সঠিক সংখ্যা, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং কিটের উপাদানগুলো জেলাভিত্তিক বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও উদ্যানপালন বিভাগ (Horticulture Department) কর্তৃক ঘোষিত বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। আবেদনকারীদের সাধারণত উপযুক্ত ছাদের জায়গার প্রমাণ দিতে হয় এবং জেলা উদ্যানপালন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্তাবলি মেনে চলতে হয়। যেসব জেলায় অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়, সেখানে আবেদনকারীদের প্রস্তাবিত ছাদ-বাগানের বিস্তারিত বিবরণ ও ছবি জমা দিতে হতে পারে।
কী কী চাষ করা যেতে পারে?
এই প্রকল্পটি পরিবারগুলোকে মৌসুমি শাকসবজি এবং অন্যান্য দরকারি উদ্ভিদ চাষে উৎসাহিত করে। স্থানীয় পরিস্থিতি এবং ছাদের আয়তনের ওপর ভিত্তি করে বাসিন্দারা টমেটো, লঙ্কা , বেগুন, ঢেঁড়স, শাকজাতীয় সবজি ও ভেষজ উদ্ভিদের পাশাপাশি ঔষধি ও সুগন্ধি গাছও ফলাতে পারেন। ছাদ বাগান শহরের অব্যবহৃত স্থানগুলোকে উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। উত্তর প্রদেশ সরকারের এমএসএমই (MSME) পোর্টালে ছাদ বাগানকে এমন একটি বিশেষ প্রকল্প হিসেবে দেখানো হয়েছে।
এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্যগুলো হলো:
- শহরাঞ্চলে সবুজায়ন ও সুস্থায়ী পরিবেশগত ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
- পরিবারগুলোকে নিজেদের প্রয়োজনীয় কিছু শাকসবজি নিজেরাই উৎপাদনের জন্য উৎসাহিত করা।
- গৃহভিত্তিক বাগান করার মাধ্যমে টাটকা এবং রাসায়নিকমুক্ত বা স্বল্প-রাসায়নিকযুক্ত কৃষিপণ্যের জোগান বৃদ্ধি করা।
- বাড়ির অব্যবহৃত ছাদের জায়গাকে উৎপাদনশীল কাজে লাগানো।
- শহুরে উদ্যানপালন এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা।
- নাগরিকদের শাকসবজি চাষের বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা।