নিজস্ব সংবাদদাতা: বায়ুদূষণের মাত্রা বেশি, এমন এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের গ্লুকোমা ও ছানি পড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি। সম্প্রতি একাধিক গবেষণা থেকে এমন হাড়হিম-করা তথ্য উঠে এসেছে। এই তথ্য বায়ুর গুণমান সংক্রান্ত কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণের পক্ষে আরও জোরদার সওয়াল করছে দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে এসে ফুসফুসের ক্ষতি হয়, এতদিন এমনটা জানা ছিল।কিন্তু চোখের ওপর এই দূষণের প্রভাব সম্পর্কে খুব কম তথ্যই জানা ছিল। শুধু গ্লুকোমা নয়। চোখে ছানি পড়ার সম্ভাবনাও বাড়ে বায়ুদূষণের ফলে। ছানি পড়লে চোখের লেন্স ঘোলা হয়ে যায়, যার ফলে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে পড়ে। এমনকি, দৃষ্টিশক্তি লোপ পর্যন্ত পেতে পারে। এই ছানি বিশ্বজুড়ে দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের প্রধান কারণ, যা প্রায় ৯ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করে। গ্লুকোমার ক্ষেত্রে—যা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৭ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করে—চোখের সঙ্গে মস্তিষ্ককে যুক্তকারী প্রধান স্নায়ুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যেতে পারে।

গ্লুকোমার ক্ষেত্রে—যা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৭ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করে—চোখের সঙ্গে মস্তিষ্ককে যুক্তকারী প্রধান স্নায়ুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে যেতে পারে। সৌদি আরবের রিয়াধে অবস্থিত কিং খালেদ আই স্পেশালিস্ট হাসপাতালের আহমেদ আলনাবিহি, যিনি এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তিনি বলেন, “আমরা বহু বছর ধরেই জানি যে বায়ু দূষণ ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে, কিন্তু চোখের ওপর এর প্রভাব নিয়ে খুব কম গবেষণা হয়েছে এবং এ বিষয়ে যেটুকু তথ্য পাওয়া যায়, তা বিক্ষিপ্ত ও অসম্পূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রতিদিন এমন রোগীদের দেখি যারা গ্লুকোমা বা ছানির মতো সমস্যার কারণে দৃষ্টিশক্তি হারাচ্ছেন। যদি পরিবেশগত কোনো বিষয় এসব সমস্যাকে ত্বরান্বিত করে থাকে, তখন তা আমাদের অন্য ইঙ্গিত দেয়।” ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব ক্যাটারাক্ট অ্যান্ড রিফ্র্যাক্টিভ সার্জনস-এর ৪৪তম কংগ্রেসে একাধিক গবেষণা পত্র পাঠ করা হয়। সমস্ত গবেষণা খতিয়ে দেখা হয়। ৪১টি গবেষণাকে একত্রিত করা হয়। যেখানে পূর্ব এশিয়া ও যুক্তরাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষের তথ্য বা ডেটা ব্যবহার করা হয়।

গবেষকরা বিভিন্ন ধরণের বায়ু দূষণের মাত্রা, যেমন পার্টিকুলেট ম্যাটার, নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড, ওজোন এবং কার্বন মনোক্সাইডের পরিমাণ খতিয়ে দেখেন। তাঁরা এই মাত্রাগুলোকে গ্লুকোমা, ছানি বা বয়স-সম্পর্কিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশনে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যার সাথে তুলনা করেছেন। গবেষকরা দেখেছেন যে, বাতাসে সূক্ষ্ম বস্তুকণা দূষণের মাত্রা যত বেশি হয়, গ্লুকোমার ঝুঁকিও তত বাড়ে। সবচেয়ে বেশি দূষিত এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে গ্লুকোমার ঝুঁকি, সবচেয়ে কম দূষিত এলাকায় বসবাসকারীদের তুলনায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।

Translate »