নিজস্ব সংবাদদাতা: পরিবেশবিদরা বলছেন, প্রকৃতি আর সর্বংসহা নেই। তার মেজাজ পাল্টাচ্ছে, খেয়ালখুশি পাল্টাচ্ছে। আর সেই কারণে, অচিরেই ছয় ঋতুর মধ্যে মাত্র দুই ঋতুই দাপিয়ে বেড়াবে, বাকিরা কিঞ্চিৎ উঁকিঝুকি মারবে। দাপিয়ে বেড়াবে গ্রীষ্ম আর বর্ষা। হেমন্ত, শীত আর বসন্ত আসবে ঠিকই, তবে তা টের পেতে-না-পেতেই চলে যাবে। জলবায়ুর পরিবর্তন এখন গোটা বিশ্বকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিশ্ব উষ্ণায়ন এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গরমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা হয়েছে। তবু, অনেকেই কিন্তু এয়ারকন্ডিশনার কেনেনি। কারণ, তাতে আরও উত্তপ্ত হবে পরিবেশ। প্রশ্ন হল, আমাদের মতো দেশে এই গরম দীর্ঘস্থায়ী হয়। আগে তবু একট হাওয়া-বাতাস খেলে যেত। এখন এক-হাত অন্তর বহুতলের দাপটে তা আর খেলে না। বৃষ্টির জলের সোঁদা গন্ধ নাকে আসত। এদিক-ওদিক কিছু-কিছু জায়গায় মাটি থাকত। এখন আর তা নেই। পুরোটাই কংক্রিটের কাঠামো। ফলে বৃষ্টির জল মাটি অবধি পৌঁছচ্ছে না। মাটি সিক্ত না-হলে তার শরীর থেকে স্নিগ্ধ করে দেওয়ার মতো ঠান্ডা বিকিরণ হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে, আমরা এখন এয়ারকন্ডিশনার মেশিন কিনে আনছি। বলাই বাহুল্য, তাতে করে চারপাশ আরও উত্তপ্ত হচ্ছে। তাছাড়া বিদ্যুতের বিল দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। অথচ, এর বিকল্প যে কিছু নেই, তা কিন্তু নয়। ঘরের ভেতর গাছ, যার গালভরা নাম ইন্ডোর প্লান্টস, এর বিকল্প হয়ে উঠতে পার। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, ইন্ডোর প্লান্টস গাছের ধর্ম মেনেই তার চারপাশকে ঠান্ডা রাখে। এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, কতটা ঠান্ডা রাখে। এ-কথা ঠিকই, একটা ছোট বা মাঝারি গাছ তার চারপাশের খুব সামান্য অংশকেই ঠান্ডা রাখতে পারে। কিন্তু তাতে অসুবিধা নেই। কারণ, একটা নয়, একাধিক ইন্ডোর প্লান্টস ঘরে রাখলে, ঘরময় পরিবেশ ঠান্ডা হতে পারে। যা কৃত্রিম এয়ারকন্ডিশনারের চেয়ে অনেক ভালো একটি বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ইন্ডোর প্লান্টস শুধু ঘরের পরিবেশকে ঠান্ডা রাখে না, সেই সঙ্গে দূষণের মোকাবিলাও করে। দূষিত কণাকে শুষে নেয় গাছ। ঘর থাকে পরিশুদ্ধ। বলাই বাহুল্য, এই ইন্ডোর প্লান্টস কিন্তু সেরকম খরচসাপেক্ষ নয়। শুধু নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়, এই যা। মাঝেমধ্যে বারান্দায় বা অন্য কোনও আলোকিত জায়গায় নিয়ে গিয়ে রাখতে হয়। তারপর আবার তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে ঘরে। প্রয়োজনে সপ্তাহে একদিন একজন মালি এসে গাছের পরিচর্যা করে যেতে পারেন। একদিন হিসেবেই মালি তাঁর মজুরির টাকা নেবেন। যা এমন কিছু নয়। গাছের পরিচর্যায় যা-যা করার, তা করবেন ওই মালি। আমাদের শুধু ওই গাছগুলোর পাতায় হাত বুলিয়ে বলতে হবে, কেমন আছো গো তোমরা?