নিজস্ব সংবাদদাতা: স্বাধীনতার আগে অবধি আমাদের দেশ শাসন করেছে অনেকে। যারা যখন সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে তখন আইন কানুনের সঙ্গে সামাজিক রীতিনীতি ও কায়েম করেছে। বিস্তার করেছে তাদের শিল্প সংস্কৃতির। এভাবেই পরিচিত হয়েছি আমরা সেই সময়কার স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে। বেলেপাথর, কাঠ, সাদা মার্বেল এসব দিয়ে তৈরি হতো স্থাপত্যগুলোর গুহা, মন্দির, স্তূপ, খিলান, গম্বুজ, মিনার, মসজিদ, দুর্গ। পাথরগুলোকে মজবুতভাবে আটকে রাখার জন্য চুন, সুরকির গাঁথুনি ব্যবহার করা হতো। এমন মজবুত ভাবে তৈরি করা হতো সেই সব স্থাপত্যগুলো যে নানান আক্রমণ, রাজবংশের উত্থান -পতন হওয়া সত্বেও আজও তা টিকে আছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন বিপর্যয়, ক্ষয়ক্ষতির ধাক্কা সামলালেও আজ কিন্তু এই স্থাপত্যগুলো বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ক্রমশ উষ্ণ হচ্ছে পৃথিবী। তাপমাত্রা বাড়ছে দ্রুতগতিতে। এই উষ্ণায়নের সঙ্গে পরিচিত নয় স্থাপত্যগুলো।
আজ শহর বাড়ছে। শহরের সম্প্রসারণ এবং আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণ স্থাপত্যগুলোতে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলছে। মাইসুরুতে আয়োজিত ঐতিহ্য বিষয়ক একটি কর্মশালায় এই ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আয়োজক ছিল মহীশূর বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট অফ টাউন প্ল্যানার্স ইন্ডিয়া এবং মাইসুরু আঞ্চলিক কেন্দ্র। যখন এই স্থাপত্যগুলো তৈরি হয়েছিল তখন চারপাশে এত জনবসতি ছিল না। চারপাশ ছিল খোলামেলা , উন্মুক্ত। এখন এই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। শহর বাড়তে থাকার কারণে বায়ুদূষণ বাড়ছে। নতুন নতুন নির্মাণ কাজ হওয়ার কারণে কম্পনের সংস্পর্শে স্থাপত্যগুলো আসছে সরাসরি। যার ফলে স্থাপত্যগুলোর দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।
নগরায়নের ফলে শহরগুলোর তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার বেড়েছে ৬০শতাংশ। ২০০৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দেশের ১৪১ টি শহরের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণা থেকে দেখা যাচ্ছে যে, গাছপালা কমে যাওয়া, এসি মেশিনের ব্যাপক ব্যবহারের কারণই তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে মোকাবিলা করার মতন করে স্থাপত্যগুলো তৈরি করা হয়নি। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, সেই সঙ্গে আর্দ্রতার তীব্র বৃদ্ধির কারণে স্থাপত্যগুলোতে শ্যাঁওলা জমা, জল চুইয়ে পড়া, ভিত্তির দুর্বলতা , প্লাস্টার খসে পড়ার মতো সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া, প্রবল ঝড় এবং দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার কারণে ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলো আজ বিপর্যয়ের মুখে। যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ভারত তার শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক এই ঐতিহ্যগুলো মাত্র কয়েক দশকের মধ্যেই হারিয়ে ফেলতে পারে।