নিজস্ব সংবাদদাতা:
‘প্রজাপতি প্রজাপতি/ কোথায় পেলে ভাই এমন রঙ্গীন পাখা’
-কাজি নজরুল ইসলাম
প্রজাপতি নিয়ে কাজি নজরুল ইসলামের এই গান শোনেনি, এমন বাঙালি কমই আছে। শুধু নজরুল নয়। রবীন্দ্রনাথও লিখেছিলেন প্রজাপতি নিয়ে গান।
‘ওরে প্রজাপতি, মায়া দিয়ে কে যে পরশ করল তোরে
অস্তরবির তুলিখানি চুরি ক’রে’॥
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সত্যিই তো, প্রকৃতির ক্যানভাসে রংবেরঙের তুলির টানে কেই-বা সৃষ্টি করল এমন এক পতঙ্গকে। ফুলে-ফুলে মধু খেয়ে বেড়ানোর দিন শেষ। বহু প্রজাতির প্রজাপতি হারিয়ে যাওয়ার মুখে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভাবনীয়ভাবে হারে হারিয়ে যাচ্ছে প্রজাপতি । গবেষণার তথ্য বলছে, ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৫৫৪ টি নথিভুক্ত প্রজাতির মধ্যে প্রজাপতির বৈচিত্র্য ২২ শতাংশ কমেছে। ৭৬ হাজারের বেশি সমীক্ষা এবং ৩৫ টি পর্যবেক্ষণ থেকে পাওয়া এই তথ্য জানাচ্ছে, প্রজাপতিরা আজ বিপন্ন। শুধু আমেরিকা নয়, সারা বিশ্বেই আজ প্রজাপতিরা আজ বিপন্ন। পরিবেশ দূষণ তো আছেই, এছাড়া নানা কারণে প্রজাপতিরা হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতি থেকে।
দ্রুতগতিতে নগরায়নের সৌজন্যে কাটা পড়ছে হাজার-হাজার গাছ। হারিয়ে যাচ্ছে ঝোপঝাড়। এমনকি রেহাই পাচ্ছে না জঙ্গলও। শুঁয়োপাকা একদিন নিজেকে আড়ালে নিয়ে গিয়ে এমন সুন্দর কী করে হয়ে উঠত, তা নিয়ে আমাদের বিস্ময়ের শেষ ছিল না। আজ সেই ঝোপঝাড়ও নেই, সেই বিস্ময়ও নেই, সেই শুঁয়োপোকাও নেই, সেই রংবেরঙের প্রজাপতিও নেই। আগে ফুলে-ফুলে মধু খেয়ে ঘুরে বেড়াত প্রজাপতি। কিন্তু, এখন বাড়ির বাগানেও যেভাবে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে করে সেখানকার ফুলের মধু খেয়েও মরে যাচ্ছে রংবেরঙের সব প্রজাপতিরা।
জলবায়ুর পরিবর্তন, তাপমাত্রার বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টি তাদের জীবনচক্রে প্রভাব ফেলছে। এটাও কিন্তু তাদের হারিয়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রজাপতিরা হারিয়ে যাওয়ার ফলে বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে। কারণ, প্রজাপতিরা পরাগ সংযোগে ও খাদ্যশৃঙ্খলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এর জুড়ি মেলা ভার। রংবেরঙের প্রজাপতি দেখলে যেমন চোখের আরাম, তেমনই মনের আরাম। মাত্র এক থেকে দুই সপ্তাহ বাঁচে যারা, পতঙ্গ শ্রেণির সেই প্রজাপতি বহুবর্ণময় পাখা যদি চোখের সামনে থেকে হারিয়ে যায়, তাহলে তা সর্বনাশ ডেকে আনবে।
আর কত নিজের ক্ষতি নিজেরাই করব আমরা?