নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক ডব্লিউডব্লিউএফ-ইন্ডিয়া (WWF-India)-এর এ বছরের ‘বিগ বাটারফ্লাই মান্থ’ (Big Butterfly Month) কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। এই উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো তরুণ প্রজন্মকে প্রজাপতির বৈচিত্র্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করা। বিভিন্ন ধরনের প্রজাপতিকে আলাদা করে নথিবদ্ধ করতে যেন উৎসাহিত হয় এই প্রজন্ম, সেই লক্ষ্যও রয়েছে। ‘নাগরিক বিজ্ঞান’ (citizen science)-এ অবদান রাখতে তারা যাতে আগ্রহী হয়, তা-ও ভাবা হয়েছে। প্রজাপতিরা বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরা পরাগ সংযোগকারী হিসেবেও কাজ করে। খাদ্যশৃঙ্খলে বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। এদের সংখ্যা বাড়ানো দরকার। এরা বৃহত্তর পরিবেশগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে—যার মধ্যে দূষণ, আবাসস্থলের অবক্ষয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো রয়েছে। তাই, জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তনগুলো বোঝার জন্য প্রজাপতির প্রজাতিগুলোর নিয়মিত নথিবদ্ধকরণ অত্যন্ত জরুরি। ডব্লিউডব্লিউএফ-ইন্ডিয়া (WWF-India) প্রায় এক দশক ধরে ‘বিগ বাটারফ্লাই মান্থ’ (Big Butterfly Month) শীর্ষক একটি উদ্যোগ নিয়ে আসছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সারা দেশের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থা ও সংরক্ষণ গোষ্ঠীর সাথে মিলে সাধারণ মানুষকে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থলে প্রজাপতি পর্যবেক্ষণ করতে, সেগুলোর ছবি তুলতে এবং নথিবদ্ধ করতে উৎসাহিত করে।

এই কর্মসূচিটি সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে শিক্ষা ও নাগরিক-বিজ্ঞানমূলক কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটায়। যার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা জীববৈচিত্র্য বিষয়ক গবেষণায় অবদান রাখতে পারেন। ডব্লিউডব্লিউএফ-ইন্ডিয়া (WWF-India)-এর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কার্যালয় (WBSO) বছরে চারটি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মাধ্যমে ১৯৫ জন শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবককে যুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘নেচার মেটস নেচার ক্লাব’-এর সহযোগিতায় ইকো পার্কে আয়োজিত একটি অধিবেশন। ডব্লিউডব্লিউএফ-এর স্বেচ্ছাসেবক ও অশোক হল গার্লস হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এলিয়ট পার্কে দুটি কার্যক্রম এবং হাওড়ার সেন্ট অ্যাগনেস কনভেন্ট স্কুলে আয়োজিত একটি কর্মসূচি আয়োজন। এই উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো তরুণ অংশগ্রহণকারীদের কেবল সুসংগঠিত মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে, তাদের ভবিষ্যতের জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষক ও প্রচারক হিসেবে গড়ে তোলা। মাঠপর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর, স্বেচ্ছাসেবকরা প্রজাপতি নথিবদ্ধকরণের কাজটিকে নিজেদের এলাকায় নিয়ে যেতে পারেন। ছাত্র ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে WWF-ইন্ডিয়ার লক্ষ্য হল তরুণ নাগরিকদের নিয়ে বৃহত্তর নেটওয়ার্ক তৈরি করা। যারা জীববৈচিত্র্য নথিভুক্ত করতে পারে।

Translate »