নিজস্ব সংবাদদাতা: ২০২৭-এর কুম্ভমেলার আয়োজনে এখন থেকে ব্যস্ত নাসিক। বলা ভালো, নাসিক এবার ‘হোস্ট’ করছে। গঙ্গা ও তার সঙ্গে বয়ে চলা নদীর দূষণ রোধে এই মুহূর্তে সরকারি ও আধাসরকারি মিলিয়ে বেশ কিছু সংস্থা কাজ করছে। গঙ্গার কোন প্রবাহে কেমন দূষণ, কোন উপনদী এসে মিশছে কোথায় আর সেখানকার জলের মান কীররম, তা জানা যাচ্ছে, সেই মতো পদক্ষেপও করা হচ্ছে। নাসিকের আম্বাদ শিল্পাঞ্চল লাগোয়া নদীর যে-দূষণচিত্র ধরা পড়েছে, তা রীতিমতো ভাবিয়ে তুলছে। সেখানকার জলের নমুনা সংগ্রহ করে দেখা গেছে, নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে ১ হাজার গুণ বেশি ক্রোমিয়াম রয়েছে সেখানকার জলে! নন্দিনী দিয়ে যে জলপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে গোদাবরীর দিকে, সেই প্রবাহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই রাজ্য সরকার পদক্ষেপ করেছে। কীভাবে কোন পথে এই দূষণের মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, শিল্পাঞ্চলের তরল বর্জ্য যথাযথভাবে পরিশুদ্ধ না-করেই নদীতে ফেলা হচ্ছে। সেই কারণেই এই দূষণ। এই ক্রোমিয়ান কিন্তু খুব-একটা নিরীহ কিছু নয়। রীতিমতো কার্সিনোজেনিক। ক্যানসারের কারণ।

প্রসঙ্গত, ছোট-বড় মিলিয়ে এদেশের কয়েকশো শহর নিকাশী নালা দিয়ে কী পরিমাণ বর্জ্য ফেলে গঙ্গায়। আর তার ফলে গঙ্গা দূষণ কীভাবে বেড়ে চলে। কিন্তু প্রশ্ন হল, জ্ঞানপাপী হয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকব নাকি গঙ্গার দূষণ রোধে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ করব। কানপুরের একটি সংস্থা ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে। ওই সংস্থার গবেষকরা দেখিয়েছেন, শুধু বর্জ্য পরিশাধন করে নদীতে ফেললেই হবে না। ওই বর্জ্য থেকে শক্তি বা এনার্জি উৎপাদন করতে যাবে। পরিবেশবিদরা বলছেন, কেন্দ্রীয় সরকার এখন চাইছে, বর্জ্য থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হোক। আর, সেই মতো পদক্ষেপও করছে। বিভিন্ন রাজ্যও ধীরে-ধীরে সেই পথে হাঁটা শুরু করেছে। কানপুরের সংস্থা যে-গবেষণা চালিয়েছে, তারও লক্ষ্য ঠিক এমনই— বর্জ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করা ও তারপর পরিশুদ্ধ অংশ নদীতে ফেলা।

Translate »