নিজস্ব সংবাদদাতা: দ্রুত যেভাবে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে, তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ না-হোক, অন্তত তার ছায়া-যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে। গত কয়েকদশক ধরে পরিবেশবিদরা সতর্ক করে চলেছেন, এখনই পদক্ষেপ না-করলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হবে না। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি কেউ। তাই এখন দেখা যাচ্ছে, জলবায়ুর পরিবর্তন ও তার ফলে খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা বিশ্বজুড়ে বিবাদ-বিসম্বাদের পরিবেশ তৈরি করছে। যার নেপথ্যে রয়েছে এল নিনো। এই এল নিনো বিশ্বের বহু দেশেই বেপরোয়াভাবে খরা-পরিস্থিতি তৈরি করছে। খরা আগেও হত। কিন্তু, এত ঘনঘন খরা, এত ভয়াবহ খরা এর আগে এত হয়নি বলেই মনে করছেন পরিবেশবিদরা। চলতি বছরে যে-বিপুল শক্তি সঞ্চয় করেছে এল নিনো, তা শেষ অবধি ফসল ধ্বংস করবে। কারণ, এই এল নিনো একদিকে খরা আর অন্যদিকে এক্সট্রিম ক্লাইমেট, অর্থাৎ শীতকালে প্রবলতর শীত, গরমকালে প্রবলতর গরম, ডেকে আনছে। যা ক্ষেতজুড়ে শস্যের ফলন নষ্ট করছে।
এখানেই শেষ নয়। এর উপর রয়েছে ভৌগ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। সোজা কথায়, যুদ্ধ-পরিস্থিতি। যেমন, পশ্চিম এশিয়ায় চলছে এখন। একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের খামখেয়ালিপনা, অন্যদিকে ইজরায়েল-হামাস যুদ্ধ। ইরানের উপর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে যে-যুদ্ধ ডেকে এনেছে আমেরিকা, তার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ইরান প্রায়শই হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে রাখছে। যার উপর দিয়ে জাহাজ-বোঝাই পেট্রো-পণ্য চলাচল করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে। শেষ অবধি যা দেশে-দেশে জ্বালানির সঙ্কট তৈরি করেছে।
জ্বালানি এমনই এক জিনিস, যার অভাবে অর্থনীতিতে সামগ্রিকভাবে সঙ্কট তৈরি করে। সহজ কথায়, যে ম্যাটাডোরে পুঁইশাক থেকে পালংশাক আনা হয় বাজারে, তেলের দাম বাড়লে সেই পুঁইশাকেরও দাম বাড়বে। সামগ্রিকভাবে সরবরাহ-শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেন সঙ্কটে পড়বে। রান্নার গ্যাসের দাম নিয়ে যা আমরা হাড়ে-হাড়ে টের পাচ্ছি। এই পরিস্থিতিতে, দেশে-দেশে বিরোধ, যাকে ভৌগ-রাজনৈতিক বিরোধ বলা হচ্ছে, তা আরও বাড়বে। অর্থাৎ, একদিকে পরিবেশ বিপর্যয়ে শস্যের ফলন অনিশ্চিত হয়ে উঠবে, অন্যদিকে, অন্য দেশ থেকে শস্য বা জ্বালানি আনতে গিয়ে বাধা পেতে হবে। এমতাবস্থায়, আমেরিকা বনাম ইরান হোক কি ইজরায়েল বনাম হামাস হোক, চলমান যুদ্ধে কোনো-না-কোনো পক্ষ নিতেই হবে। যা শেষ অবধি বিশ্বজুড়ে ছায়া-যুদ্ধে পরিণত হবে।