নিজস্ব সংবাদদাতা: দুর্গা প্রতিমার প্রকৃত বিসর্জন কখন হয় জানেন? নদীতে বিসর্জন দেওয়ার অনেক আগেই। শুনলে খানিক বিস্ময় জাগে ঠিকই। কিন্তু শাস্ত্রমতে এটাই ঘটনা। রীতি অনুযায়ী, বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের আগে দেবীর সামনে একটি কাঁসার পাত্রে পরিশুদ্ধ জল রাখা হয়। সেই জলের উপর এমনভাবে একটি দর্পণ ধরা হয় যাতে সেই জলে দেবী প্রতিমার প্রতিচ্ছবি পড়ে। পুরোহিত মন্ত্র উচ্চারণ করেন। পুজোর ঘট-চালনা হয়। এর মাধ্যমে দেবীমূর্তি থেকে প্রাণের প্রতীকী প্রস্থান ঘটে। দর্পণ বিসর্জনের পর মাটির প্রতিমার মধ্যে দেবী আর অধিষ্ঠান করেন না। তখন তা নেহাতই মৃত্তিকা নির্মিত জড় ও প্রাণহীন মূর্তিতে পরিণত হয়। শাস্ত্রমতে, দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমেই দেবীর দিব্য চেতনার বিসর্জন হয়। এর মাধ্যমেই দেবী পুনরায় তাঁর ধামে চলে যান।

এই পরিস্থিতিতে একটি প্রশ্ন উঠে আসছে সঙ্গত কারণেই। তা হল, কেন গঙ্গাতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়?
সত্যি কথা বলতে, বিসর্জনের এই প্রথা কিন্তু অর্থহীন। তা আড়ম্বর ছাড়া আর কিছু নয়। আর এই আড়ম্বরের কারণে গঙ্গার দূষণ বাড়ে। যদিও রাসায়নিক রং প্রতিমাতে ব্যবহার করা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে, তবে তা যথেষ্ট নয়। তাই প্রতিমা বিসর্জনের পর প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক নদীতে গিয়ে পড়ে। তা নদীর দূষণ বাড়ায়। পরিবেশবিদরা গত এক-দেড়দশক ধরে নদীতে প্রতিমা বিসর্জন নিয়ে সচেতন করে আসছেন। বাঙালির যেমন দুর্গাপুজো, মারাঠীদের তেমন গণেশপুজো। দুর্গাপুজো, কালীপুজো, গণেশ চতুর্থীর বিসর্জনের পর নদীতে বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড-এর মাত্রা সাংঘাতিকরকম বেড়ে যায়।

একটা সময় ছিল, যখন আক্ষরিক অর্থেই মাটি ও প্রাকৃতিক রং দিয়ে প্রতিমা তৈরি হত। এখন কিন্তু প্লাস্টার অব প্যারিস দিয়ে তৈরি হয় প্রতিমা। তার ওপর ভারী-ধাতু মিশ্রিত ক্ষতিকারক রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়। শেষ অবধি যা নদীর জলকে দূষিত করে। প্রসঙ্গত, গঙ্গা বা অন্য কোনও নদীর এই দূষণের প্রথম শিকার হয় মাছ। সেই মাছের মাধ্যমে আমাদের শরীরে দূষিত রাসায়নিক বাসা বাঁধে। নদীর বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অথচ, শাস্ত্রমতে এই বিসর্জন একেবারেই অর্থহীন। সনাতনী মতে দর্পণের মাধ্যমেই প্রকৃতি বিসর্জন হয়। কিন্তু কে শোনে কার কথা। ‘তোমার কথা হেথা কেহ তো বলে না, করে শুধু মিছে কোলাহল’।

Translate »