নিজস্ব সংবাদদাতা: ইউনিসেফ বলছে, পরিবেশ বিপর্যয়ে এবার আক্রান্ত শৈশব! বিশ্ব উষ্ণায়ন ও তার প্রভাবে খামখেয়ালি হয়ে ওঠা প্রকৃতি আজ বড় বিরূপ হয়ে উঠেছে। খরা, বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, দাহদাহ, বায়ুদূষণ, অপরিশুদ্ধ পানীয় জল, জীবাণু-বাহিত রোগ— সবকিছুর মুখোমুখি হতে হচ্ছে শিশুদের। যা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে শৈশবকে। ইউনিসেফের কার্যনির্বাহী অধিকর্তা হেনরিয়েতা ফোর্ট জানান, শিশুরা কীভাবে আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে সঙ্কটে পড়ছে, “তা নিয়ে এই প্রথম আমাদের কাছে একটা সামগ্রিক চিত্র উঠে এল। যা রীতিমতো উদ্বেগজনক। পরিশুদ্ধ জল থেকে শুরু করে, বিশুদ্ধ বাতাস, পুষ্টিকর খাবার, পড়াশোনা, মাথার উপর পাকা ছাদ, শোষণের হাত থেকে মুক্তি— সবকিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিশ্বের কয়েককোটি শিশু”!

এখানেই শেষ নয়। পরিবেশের কারণে উদ্বাস্তু হওয়া পরিবারের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া পরিবারের শিশুরা তাদের শৈশব হারাচ্ছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, ২০২০ সালে যারা জন্মেছে, তাদের জীবনভর জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ মাথায় করে বাঁচতে হবে। গোটা বিশ্বের গড় তাপমাত্র যদি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে, তাহলেও ভোগান্তি কমবে না। জঙ্গলে আগুন লাগার ঘটনাও বেড়ে উঠবে। তেতে উঠবে গোটা বিশ্ব। আক্রান্ত হবে ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সি দেড় কোটি শিশু, বিশ্বজুড়ে।

এছাড়া যুদ্ধ ও গৃহযুদ্ধের কারণে অস্থায়ী শিবিরে অসংখ্যা শিশুর শৈশব কাটছে। গাজায় শিশুদের করুণ অবস্থা প্রতিদিন চোখে পড়ছে আমাদের। তারা না-পাচ্ছে পরিশুদ্ধ জল, না-পাচ্ছে পুষ্টিকর খাওয়া-দাওয়া, না-পাচ্ছে শৈশবের খেলে বেড়ানোর আনন্দ। রোগবিসুখ থেকে মানসিক অবসাদ, উদ্বেগ তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠতে চলেছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, প্রকৃতি ও পরিবেশ শিশুদের মনের উপর প্রভাব ফেলে। অস্থায়ী শিবির হোক কি বস্তি-ঝুপড়ি, কোথাও একজন শিশু বেড়ে উঠছে, তার উপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। ঘুপচি ঘর, দুর্গন্ধময় গলি, শৌচালয়ের অভাব, সমাজের উপরতলার নিষ্পৃহতা একজন শিশুকে অচিরেই অপরাধী করে তুলতে পারে। শৈশবে মনের উপর দাগ রেখে যায়, এমন স্মৃতি যৌবনকে বিপন্ন করে তোলে। সবমিলিয়ে বলা যেতে পারে, যথাযথ পরিচ্ছন্ন পরিশুদ্ধ পরিবেশের অভাবে বিপন্ন হয় কয়েক কোটি শৈশব।

Translate »