নিজস্ব সংবাদদাতা: গঙ্গা নদী উত্তরকাশীর গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে উত্তরাখণ্ড, উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে প্রায় ২,৫২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। নদীর উৎসস্থল হিসেবে উত্তরাখণ্ড দূষণ রোধে যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তা সমগ্র ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি জুড়ে এই নদীর সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয় বিস্ময়! দূষিত গঙ্গা বঙ্গে এসে পরিশুদ্ধ হচ্ছে গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রায় গোটা দেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাগরে এসে মিশেছে গঙ্গা।

এতদিন ধারণা ছিল, পাহাড়ি জনপদের উচ্চপ্রবাহে গঙ্গার দূষণ অনেক কম। যত সে নিচে নেমে আসছে, তত সে দূষিত হচ্ছে। আশির দশকের রাজ কাপুর পরিচালিত একটি সুপারহিট ছবিতে গঙ্গার এই উচ্চপ্রবাহ থেকে নিম্ন প্রবাহে নেমে আসা দূষণের সঙ্গে সামাজিক দূষণের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। যদিও, সম্প্রতি সরকারি তথ্য ও পরিসংখ্যান বলছে— নাহ্, গঙ্গার উচ্চপ্রবাহে যতটা দূষণ ছড়িয়েছে, নিম্নপ্রবাহে এসে সেই দূষণ বাড়েনি, বরং কমেছে। ন্যাশানাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা এক্সপোস্টে জানিয়েছে, উচ্চপ্রবাহ থেকে যাবতীয় যা কিছু বহন করে নিম্নপ্রবাহে পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছয়। একেবারে হিমালয় থেকে শুরু করে যত রাজ্যের যত শহরের নালার অপরিশোধিত তরল বর্জ্য নিয়ে গঙ্গা যখন বাংলায় এসে পৌঁছয়, তখন তার দূষণ অনেক কমে যায়!

কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ লক্ষ করে দেখেছে, গত ৭ বছরে পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গার প্রবাহ, সে হুগলি নদী হোক কি ভাগীরথী নদী, অনেকটাই পরিশুদ্ধ। নমামি গঙ্গে-র তথ্য অনুযায়ী, ত্রিবেণী থেকে ডায়মন্ড হারবার পর্যন্ত গঙ্গার প্রবাহ প্রায়োরিটি—৩ –এর মধ্যে পড়ে। আবার বহরমপুর থেকে ডায়মন্ড হারবার পর্যন্ত প্রবাহ পথে তা প্রায়োরিটি—৫ –এর মধ্যে পড়ে। মোদ্দা কথায়, উচ্চপ্রবাহ থেকে নিম্নপ্রবাহে গঙ্গার জল অনেক বেশি পরিশুদ্ধ। পরিবেশবিদরা বলছেন, কলকাতা মেট্রোপলিটন অঞ্চল আর তার লাগোয়া এলাকা থেকে যাবতীয় বর্জ্য হুগলি নদীতে এসে পড়ে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৮৭ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হয়েছে মহেশতলা সিউয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। এছাড়া, ১৫৪ কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হয়েছে ব্যারাকপুর ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি হয়েছে। জঙ্গিপুরে ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈর হয়েছে আরও একটি ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। চাকদহে ১২১ কোটি ব্যয়ে তৈরি হয়েছে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। এর সারমর্ম হল, পশ্চিমবঙ্গের যেখানে-যেখানে গঙ্গা বয়ে চলেছে, সেখানে-সেখানে তরল বর্জ্য পরিশুদ্ধ হয়ে নদীতে পড়ছে।

শুধু তা-ই নয়। পরিবেশবিদরা বলছেন, পূর্ব কলকাতার রামসার-অন্তর্ভুক্ত জলাভূমিতে যখন তরল বর্জ্য বা নালার জল এসে পড়ছে, তখন তা আপনা-আপনিই পরিশুদ্ধ হচ্ছে। ওই জলাভূমির জীবাণুর যে-বাস্তুতন্ত্র রয়েছে, সেই সব জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া দূষিত জলকে পরিশুদ্ধ করতে পারে। সবমিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা অনেক বেশি পরিশুদ্ধ উত্তর ভারতের চেয়ে।

Translate »