নিজস্ব সংবাদদাতা: বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ৩৩১ দিনই আবহাওয়া ঠিক সুরে কথা বলছে না। হয় প্রচণ্ড গরম, নয় প্রবল বৃষ্টি। যাকে বলে এক্সট্রিম ক্লাইমেট, অর্থাৎ, শীতকালের প্রবল শীত, গরমকালে প্রবল গরম। প্রবল তাপপ্রবাহ, প্রবল শৈত্য প্রবাহ, প্রবল বজ্রপাত, ঘূর্ণিঝড়, মেঘভাঙা বৃষ্টি, বন্যা, ভূমিধস—ঘটেই চলেছে বছরভর। এ-দেশের পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে থাকে ‘ডাউন টু আর্থ’। ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসের পরিসংখ্যান দিয়ে তারা জানাচ্ছে, ৩৩৪ দিনের মধ্যে ৩৩১ দিনই এ-দেশে প্রকৃতি ও পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়েছে। এই বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে প্রবল শৈত্য প্রবাহ, প্রবল বজ্রপাত, ঘূর্ণিঝড়, মেঘভাঙা বৃষ্টি, বন্যা, সবকিছু।
এখানেই শেষ নয়। ২০২৫ সালের এই ১১ মাসের পরিসংখ্যান বলছে, পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে— ৪৪১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখানেই শেষ নয়। ১ কোটি ৭০ লক্ষ হেক্টর চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ লক্ষ ৮১ হাজার ৪৫৯ টি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। ৭৭ হাজার ১৮৯ টি গবাদিপশু মরে গেছে। এই বিগড়ে যাওয়া আবহাওয়া বা এক্সট্রিম ক্লাইমেট সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে হিমাচল প্রদেশ। এই পাহাড়ি রাজ্য, ওই ১১ মাসের মধ্যে, ৮০ শতাংশ দিনই বিরূপ আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছে।
পরিবেশ বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে— ৬০৮ জন। এর পরেই রয়েছে মধ্যপ্রদেশ। সেখানে মৃতের সংখ্যা ৫৩৭ । এই সময়ের মধ্যে ঝাড়খণ্ডে পরিবেশ বিপর্যয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪৭৮ জনের। দেশের উত্তর-পশ্চিম অংশ সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে, ২০২৫ সালে। সেখানে এই ১১ মাসের মধ্যে ৩১১ দিনই আবহাওয়া বিরূপ থেকেছে। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে এই ১১ মাসের ধ্যে ২৭৫ দিনই আবহাওয়া বিরূপ থেকেছে। মহারাষ্ট্রে ৮০ লক্ষ ৪০ হাজার হেক্টর ফসলের জমি নষ্ট হয়েছে, গুজরাতে ৪০ লক্ষ ৪ হাজার হেক্টর জমি বরবাদ হয়ে গেছে। পাঞ্জাব ও হিমালয় সংলগ্ন হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে মৃতের সংখ্যা ১ ৪৫৯ জন। মধ্য ভারতে এই সংখ্যা আরও বেশি— ১১২০ জন।
পরিবেশবিদ থেকে শুরু করে গবেষক-বিজ্ঞানীরা যা বলছেন তার সারকথা একটাই— যেভাবে তেতে উঠছে গোটা বিশ্ব, তাতে এমনটাই হওয়ার কথা। অতি সম্প্রতি নেপালে যে বিপর্যয় ঘটল, তা নিয়ে তো আর নতুন করে কিছু বলার নেই। এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৩০০ ছাড়িয়েছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। আর, বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য পরিকল্পনাবিহীন উন্নয়ন।