নিজস্ব সংবাদদাতা: অত্যধিক তাপমাত্রা আর অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির জোড়া ফলায় ২০০ বছরের সুনাম হারাতে চলেছে দার্জিলিঙের চা?
তেমনটাই শোনা যাচ্ছে। পাহাড়ের ঢালু অংশে, যেখানে বৃষ্টির জল পড়ে কিন্তু সেই জল দাঁডায় না, সেখানেই চা-গাছ বেড়ে ওঠে। এ পর্যন্ত ঠিকই আছে। পাহাড়ের ঢালু জায়গাও রয়েছে। কিন্তু সেখানে বৃষ্টি বড় খামখেয়ালি হয়ে উঠছে। ফেব্রুয়ারির শেষ ও মার্চের শুরুতে চা-বাগান থেকে চায়ের পাতা তোলার আদর্শ সময়। ফার্স্ট ফ্লাশ চায়ের আদর্শ সময়। যাকে ‘শ্যাম্পেন অব টি’জ’ বলা হয়। যার বাজারমূল্য ২,২০০ ডলার! ভারতীয় মুদ্রায় লক্ষ টাকার উপরে যার দাম। সেই মহার্ঘ্য চা-বাগান রয়েছে ঠিকই, সে বাগানে চা-গাছ বেড়ে ওঠে ঠিকই, কিন্তু যে-সময়ে বৃষ্টি হওয়ার কথা, সেই সময়ে বৃষ্টি হয় না। বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে অসময়ে তেতে থাকে পরিবেশ। এরপর যখন বৃষ্টি হয়, তখন লাগাতার বৃষ্টি হতে থাকে। এই খামখেয়ালি আবহাওয়ার কারণে ফার্স্ট ফ্লাশ চায়ের গুণমান কমছে। আগের মতো সুগন্ধ আর থাকছে না।

প্রসঙ্গত, চা-বাগানে একবার নয়, একাধিক সময়ে পাতা-তোলার কাজ হয়। তাই শুধু ফার্স্ট ফ্লাশ চা নয়, দার্জিলিং চায়ের অন্য যেসব শ্রেণিবিভাগ রয়েছে, সেই সব চায়ের গুণমানও কমছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, চলতি বছর ইউরোপজুড়ে যে-প্রবল গরমের দাপট দেখা গেল, তা একপ্রকার নজিরবিহীন। ওই সব দেশে এমন গরম আগে কখনও দেখা যায়নি। এমনকি, এয়ার কন্ডিশনার মেশিন পর্যন্ত কেনার কথা ভেবেছে সেখানকার নাগরিকরা। হয়তো শেষ অবধি তা কেনেননি অনেকেই। কিন্তু, এই খামখেয়ালি আবহাওয়া ভাবিয়ে তুলেছে। আমাদের এখানে দার্জিলিং শহরও কিন্তু ইংরেজদের আমলে তৈরি হয়েছিল। একটা গ্রাম থেকে একটা শহর। সেই শহরে চা-বাগান। সেই শহরে টয় ট্রেন। প্রশ্ন একটাই, বিশ্বজোড়া যে সুনাম রয়েছে দার্জিলিং চায়ের, এবার সেই সুনাম হারাতে চলেছে?

Translate »