নিজস্ব সংবাদদাতা: আন্তর্জাতিক স্তরে সবচেয়ে স্বীকৃত স্বাস্থ্য জার্নাল ল্যানসেট জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে বেড়ে চলা তাপমাত্রায় শুধু যে পরিবেশ বিপর্যস্ত হচ্ছে তা-ই নয়, সেই সঙ্গে মানুষের কাজ করার ক্ষমতাও কমে আসছে। ল্যানসেটে প্রকাশিত নিবন্ধে দেখা যাচ্ছে, আউটডোরে যাঁদের কাজ করতে হয়, তাঁরা তাঁদের কর্মক্ষমতা হারাচ্ছেন দ্রুত। শুধু গ্রীষ্মকাল নয়, বছরের অন্য সময়েও এখন গরম যেভাবে অসহনীয় হয়ে উঠছে, তা রীতিমতো বিস্ময় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সেপ্টেম্বর অক্টোবরে এবার হাঁসফাঁস করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ভাদ্রমাসে পচা গরম পড়ে ঠিকই। কিন্তু, তাই বলে এমন পরিস্থিতি আগে কখনও তৈরি হয়েছিল বলে মনে পড়ে না। আর গরমকালে তো কথাই নেই। এবার ইউরোপের বিভিন্ন শহরে তাপমাত্রার পারদ এমন চড়ে গিয়েছিল যে, তা নিয়ে মহা-চর্চা শুরু হয়েছিল। অনেকে এয়ার কন্ডিশন মেশিন কিনেছিলেন। অনেকে আবার পরিবেশের কথা ভেবে তা কেনেননি। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছিল, ইউরোপের দেশগুলোয় এত গরম পড়ল কী করে?
ল্যানসেটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গরম মানুষের কর্মক্ষমতাকে কমিয়ে দিচ্ছে। শুধু তা-ই নয়। ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে কয়েককোটি মানুষ শারীরিক ভাবে অক্ষম হয়ে পড়বে। কাজ করার ক্ষমতা হারাবে। ইতিমধ্যেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে বিশ্বজুড়ে। প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) যে মানদণ্ড তৈরি করেছে, কর্মক্ষমতা নিয়ে, সেই মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন শারীরিকভাবে কর্মক্ষম নয়। মাত্রাতিরিক্ত গরমের জন্য কর্মক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, হৃদরোগ বাড়ছে, টাইপ-২ ডায়াবিটিস বাড়ছে, নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারে আক্রান্ত হতে হচ্ছে। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা তো রয়েইছে। সবকিছু মিলিয়ে গড় আয়ু কমছে।
ল্যানসেটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর কিছুদিনের মধ্যেই অকাল মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে চলেছে। হাজারে-হাজারে। এই মাত্রাতিরিক্ত গরমের জন্য। পরিবেশবিদরা বলছেন, বিশ্ব উষ্ণায়ন শুধু যে হিমবাহের বরফ গলিয়ে বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছে পাহাড়ি এলাকা, তা নয়। শিল্প বিপ্লবের সময়ে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা যা ছিল, কমবেশি দুশো বছর পর সেই তাপমাত্রা বেড়েছে। যা আগামী পঞ্চাশ বছরে আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলি থেকে প্রায়ই খবর আসে, গরমকালে প্রখর রোদের মধ্যে কাজ করতে গিয়ে হিটস্ট্রোকে মারা যাচ্ছে মানুষ। আবার, ইটভাটার মতো জায়গায়, যেখানে এমনিতেই তেতে থাকছে আবহাওয়া, সেখানে গরম আরও অসহনীয় হয়ে উঠছে। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। যদিও, প্রথম বিশ্বের দেশগুলোতে একটা নির্ধারিত তাপমাত্রা রয়েছে। অর্থাৎ, গরমকালে যারা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে, সে কারখানার ভিতরে হোক কি সরাসরি সূর্যের নিচে, তারা কত তাপমাত্রার মধ্যে কাজ করবে, তার একটা নির্দিষ্ট মাপকাঠি রয়েছে। নির্দিষ্ট সেন্টিগ্রেডের তাপমাত্রার উপরে তাদের দিয়ে কাজ করানো যাবে না। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের দেশে এসব বিষয় ভাবা তো দূরঅস্ত, জানা পর্যন্ত যায় না।