নিজস্ব সংবাদদাতা: দিল্লিতে আতশবাজি থেকে বায়ুদূষণের মোকাবিলায় বিধিনিষেধের চেয়ে সচেতনতা অনেক বেশি কার্যকর। বলল সুপ্রিম কোর্ট।সামনেই আসছে দিওয়ালি উৎসব। এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ আতশবাজি। আবার, এই বাজির সঙ্গে বায়ুদূষণের সম্পর্ক কতটা ঘনিষ্ঠ, তা হাড়ে-হাড়ে টের পান দিল্লিবাসীরা। আর বায়ুদূষণের কারণে শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন রোগ বাড়ে। তা নিয়েও কোনো সংশয় নেই। শুধু বায়ুদূষণ নয়। শব্দদূষণও বাড়ে এই আতশবাজি সৌজন্যে।
এখন প্রশ্ন হল, কোন পথে সুরাহা?
সুপ্রিম কোর্ট বলছে যে, দিল্লি -এনসিআর এলাকায় আতশবাজির কারনে যে বায়ু দূষণ হয় তা এড়ানোর জন্য জনসচেতনতা এবং সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। কঠোর বিধি নিষেধ আরোপ করার চেয়েও এই পদক্ষেপ অনেক বেশি কার্যকরী। দেশের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি মোহন -এর বেঞ্চ জানিয়েছে যে, শীর্ষ আদালত ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করবে না। তবে আতশবাজির যে ক্ষতিকর প্রভাব, তা কমাতে এক ভারসাম্যপূর্ণ বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ করার ওপর তাঁরা জোর দিয়েছেন।
দিল্লি -এনসিআর অঞ্চলের বায়ু দূষণ নিয়ে একটি মামলার(আতশবাজি পোড়ানো, ফসলের নাড়া পোড়ানো) শুনানি চলছিল শীর্ষ আদালতে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ এ বিষয়ে কোনো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, এই ধরনের নির্দেশ প্রায়শই জোরজবরদস্তি মূলক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হয়। তাতে কাজ হয় না। ওই বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, আগে আতশবাজি পোড়ানোর জন্য যেমন নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত থাকতো ঠিক সেভাবে এবারও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হোক। দিওয়ালি উৎসব উদযাপনের জন্য জনগণের কাছে এভাবেই আবেদন জানানো হোক। যাতে করে বায়ু দূষণ এবং শব্দ দূষণ সীমার মধ্যে থাকে।
এছাড়াও আতশবাজি ব্যবহারের ক্ষতিকারক দিকগুলো নিয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচার প্রসারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, কম ক্ষতিকারক আতশবাজি বিক্রির অনুমতি দেওয়ার সঙ্গে বেশি ক্ষতিকারক (দূষণকারী) আতশবাজির বিক্রি সীমিত বা নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। মামলাটি ১৫ই অক্টোবর পরবর্তী শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।