নিজস্ব সংবাদদাতা: এ বছর গঙ্গা ভাসিয়ে দিয়েছে তার তীরবর্তী জনপদকে। দিকে-দিকে বন্যা, হাহাকার, ভেসে যাওয়া। নদীর পাগলপারা স্রোত নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে ঘর, বাড়ি, স্কুল, সবকিছুকে। অথচ, মাটির তলার জল আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, মাটির তলার জল বা ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ক্রমশ নেমে চলেছে। নদী উপচে পড়লেও তাতে কোনও লাভ হচ্ছে না। কারণ, মাটির তলার জল অন্যভাবে সঞ্চিত হয়।
বৃষ্টির জল মাটিতে পড়ে, তারপর মাটি একটু-একটু করে তা শুষে নেয়। তবে, অঝোর ধারায় বর্ষণ হলে মাটির তলার জল যে প্রবলভাবে সঞ্চিত হয়, তা কিন্তু নয়। কারণ, মাটি খুব ধীরে-ধীরে জল শুষে নেয়। দীর্ঘদিন ধরে তা সঞ্চিত হয়। তবেই জলের স্তর ঠিক থাকে। এই পরিস্থিতিতে, সমস্যা দুদিক থেকেই। প্রথমত, শহর-মফস্বল, সর্বত্র যেভাবে নির্মাণ কাজ চলছে, এতটুকু মাটিও অবশিষ্ট থাকছে না। দোতলা বা তিনতলা বাড়ির লাগোয়া কিঞ্চিৎ মাটি, তা-ও আর থাকছে না। বহুতল যখন তৈরি হচ্ছে, তখন মাটির ওপর কংক্রিটের স্তর পড়ছে। তাই মাটি নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে। ধরা যাক কলকাতা ও তার লাগোয়া অঞ্চলের কথা। পূর্ব কলকাতার একটা বড় অংশ, রাজারহাটের একটা বড় অংশ আজ কংক্রিটে ঢেকে গেছে। ওই বিপুল পরিমাণ জমিতে কয়েকদশক আগে অবধিও বৃষ্টির জল পড়ত আর সেই জল একটু-একটু করে মাটির নিচে জমা হত। কিন্তু, বহুতল বাড়ি বা আবাসনের সৌজন্যে সেখানে আর ছিটেফােঁটা মাটিও অবশিষ্ট নেই। তাই, বৃষ্টির জল পড়লে তা গড়িয়ে গিয়ে নিকাশি নালাকে ভাসিয়ে দেয়। অন্যদিকে, মাটির তলার জলের স্তর আরও তলানিতে এসে ঠেকে।
আরও একভাবে মাটির তলার জলস্তর কমছে। বহুতল আবাসনে ছেয়ে গেছে শহর-মফস্বল। এবার সেই বহুতলের বাসিন্দারা মাটির তলা থেকে জল তুলছেন আর সেই জল পাম্পের মাধ্যমে তাঁদের ঘরে আসছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে. যে-হারে বহুতলগুলো ভূগর্ভস্থ জল তুলে নিচ্ছে, তাতে করে আগামী কয়েকবছরের মধ্যে এক ভয়াবহ জল-বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে চলেছি আমরা।