নিজস্ব সংবাদদাতা: বহমান গঙ্গার ৪,৬০০ বছরের এক ইতিহাস সামনে এসেছে সম্প্রতি। গঙ্গার প্রবাহ পথের মধ্যভাগের আবহাওয়া ও জলবায়ু কেমন ছিল, তা সম্পর্কে বেশ কিছু বিষয় জানা গেছে। ভারতীয় উপমহাদেশের গ্রীষ্ম আর বর্ষা সেখানকার হাইড্রোলজিকে প্রভাবিত করেছিল। সেই সময়েও ওই অঞ্চলে কৃষিকাজ চলত, আনাজপাতি উৎপাদিত হত। এই গবেষণায় জানা গেছে, জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন কীভাবে হয়েছিল তখন, পর্যাপ্ত পরিমাণ জলের নিশ্চয়তা ছিল তখন, জলাভূমি সংরক্ষণও হত তখন। কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীন স্বশাসিত সংস্থা বিএসআইপি এই বিষয়ে বিশদে কাজ করেছে। এই গবেষণায় অনেক কিছু সম্পর্কেই স্পষ্ট ধারণা হয়েছে। প্রাচীন যুগের বিভিন্ন কৃষক গোষ্ঠী কীভাবে ওই সময়কার জলবায়ুর সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছিল, তা জানা যায় গবেষণায়। তারপর, কালক্রমে সিন্ধুসভ্যতা ধ্বংসের পরিবেশগত কারণ নিয়ে আরও অনেক কিছু জানা যায়। তখনও কিন্তু বর্ষার খামখেয়ালিপনার সঙ্গে মানিয়ে নিত হত। অনাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি ফসল উৎপাদনের প্রভাব ফেলত। ওই সময়কার প্রকৃতি ও খামখেয়ালিপনার সঙ্গে কৃষিভিত্তিক সভ্যতা নিজেকে মানিয়ে নিত। তারপর একটা সময়ে পরিবেশগত কারণে সিন্ধুসভ্যতা ধ্বংস হয়।

এখন যে পরিবেশ বিপর্যয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আমরা, জলবায়ুর যে-বদল আমাদের ভাবিয়ে তুলছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ঘনঘন বদলাচ্ছে, তার থেকে নিস্তার পেতে গেলে ওই সময়কার পরিবেশ নিয়ে যত জানা যায়, ততই ভালো। ওই সময় থেকে শিক্ষা নিয়ে এই সময়ের সভ্যতা, বলা ভালো, ভারতীয় উপমহাদেশের কৃষিভিত্তিক সভ্যতাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার পথ খোঁজা যেতে পারে। প্রসঙ্গত, এখন উৎসমুখেই হিমবাহ থেকে জল কম পাচ্ছে গঙ্গা। তারপর প্রবাহপথে বারেবারে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। কোথাও বাধ, কোথাও-বা অন্য কোনও কারণে। শেষের দিকে এসে তার জলের ভান্ডার শুকিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন শুকনো-দশা গঙ্গার বহমান ইতিহাসে আগে কখনও দেখা যায়নি। মানুষের শরীরে রক্তশূন্যতার মতোই গঙ্গার শরীরেও জলশূন্যতা দেখা দিয়েছে। যার প্রভাবে নিম্ন প্রবাহে তার শাখানদী বা উপনদীর জন্য জল অবশিষ্ট থাকছে না। তারফলে, ব্যাহত হচ্ছে সেচের কাজ। সঙ্কটে পড়ছেন কৃষক ও কৃষি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অচিরেই খাদ্যসঙ্কট দেখা দেবে। দেশের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের সাক্ষাৎকারেও এই খাদ্যসঙ্কটের কথা শোনা গিয়েছে সম্প্রতি।

Translate »