নিজস্ব সংবাদদাতা: অবিশ্বাস্য হলেও এখন এটাই কঠিন বাস্তব— গঙ্গা নদী শুকিয়ে আসছে। নেপথ্যে খলনায়ক হিসেবে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন। যা নিয়ে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে দেখা যাচ্ছে কমবেশি। তবে শুধু বিশ্ব উষ্ণায়ন নয়। সেই সঙ্গে মানুষের অবিমিশ্রকারিতাও এর জন্য দায়ী। দক্ষিণ এশিয়ার একটা বড় অংশের ওপর দিয়ে বহমান গঙ্গার সঙ্গে লক্ষ-লক্ষ মানুষের জীবনজীবিকা নির্ভর করছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, এই গঙ্গা এখন নজিরবিহীনভাবে শুকিয়ে আসছে। গঙ্গার সুদীর্ঘ ইতিহাসে এর কোনও নজির নেই। বর্ষার আগমন ও নির্গমন, দুই-ই বড় খামখেয়ালি হয়ে উঠেছে। এছাড়া নদীবক্ষ থেকে অবাধে মাটি তুলে নেওয়া তো রয়েইছে। এছাড়া, অবাধে বাঁধ নির্মাণও গঙ্গার ইতিহাস-ভূগোল পাল্টে দিচ্ছে।
শতাব্দীর-পর-শতাব্দী ধরে হাজার-হাজার জনপদ দিয়ে বয়ে চলেছে গঙ্গা। বয়ে চলেছে তার শাখানদী ও উপনদী। সেই হিমালয় থেকে শুরু করে বঙ্গোপসারর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ তার যাত্রাপথ। এই বিস্তৃত অঞ্চলের ৬৫ কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে গঙ্গার সঙ্গে। নদী বিশেষজ্ঞরা ১৩০০ বছর আগে ফিরে গিয়ে গঙ্গার প্রবাহমানতা নিয়ে একটা ধারণা করতে পেরেছেন। কিন্তু গত কয়েকদশকে এই নদীর প্রবাহপথে এমন চরা পড়ে গেছে, এমন সব খরা-পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুধু তা-ই নয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে খরার যে মানদণ্ড থাকে, তা ছাড়িয়ে গেছে এই খরা।
গঙ্গার যে সব প্রবাহ পথে বছরভর নাব্যতা থাকত, নৌ-চলাচল করত, গরমকালে সেখানে এখন গরমকালে দিব্যি কেউ হেঁটে চলে যেতে পারে। বাংলা থেকে বিহার হয়ে বারাণসী ও এলাহাবাদের দিকে যে সব বড়-বড় নৌকা পাড়ি দিত এককালে, এখন সেখানকার বহু জায়গাতেই নৌকা চলতে পারে না। গঙ্গা থেকে খাল কেটে যেসব অঞ্চলে জলসেচ করা হত কৃষির জন্য, সেই খালগুলো পর্যন্ত মজে গেছে এখন। এমনকি, গঙ্গা তীরবর্তী অঞ্চলে যে কুয়ো বা টিউবওয়েল রয়েছে, যেখান থেকে পরিশুদ্ধ পানীয় জল পেত গ্রামের মানুষ, সেখানে এখানে চুঁইয়ে-চুঁইয়ে কয়েক ফোঁটা জল গড়াতে থাকে মাত্র। নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গঙ্গার পথে যেখানে-সেখানে যথেচ্ছ বাঁধ নির্মাণও কিন্তু এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। বর্ষাবৃষ্টি খুব খামখেয়ালি হয়ে উঠেছে এখন। তাই, বছরের অন্য সময়ে জলের যে-ঘাটতি থাকে, তা বর্ষাকালে পূরণ হতে পারে না। আগে যা হত।