নিজস্ব সংবাদদাতা: গঙ্গার জল দূষণের প্রধান কারণ হল অপরিশোধিত অবস্থায় শহরের তরল নিকাশি ও শিল্পবর্জ্যের সরাসরি নদীতে নিষ্কাশন।

এক-এক করে দেখা যাক গঙ্গার এই দূষণের কারণ কী?

  1. শহরের বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশন: নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন শহর থেকে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে মানব বর্জ্য ও অপরিশোধিত নর্দমার জল কোনো রকম প্রক্রিয়াকরণ ছাড়াই সরাসরি গঙ্গায় ফেলা হয়।
  2. শিল্প কারখানার বর্জ্য: চামড়ার কারখানা (ট্যানারি), কাগজ কল, চিনি কল ও রাসায়নিক কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত রাসায়নিক ও ভারী ধাতু নদীর জলের মারাত্মক ক্ষতি করে।
  3. কৃষিকাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক: চাষের জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে সেগুলি বৃষ্টির জলের সঙ্গে ধুয়ে নদীতে মিশে জলকে দূষিত করে।
  4. ধর্মীয় আচার ও মৃতদেহ সৎকার: নদীতে মৃতদেহ ভাসানো, আংশিক পোড়ানো দেহ ফেলা এবং পুজো-আর্চার সামগ্রী, ফুল ও প্লাস্টিক বিসর্জনের ফলে দূষণ বহুগুণ বেড়ে যায়।
  5. নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়া: সেচের জন্য অতিরিক্ত জল তুলে নেওয়াও এর অন্যতম কারণ। গঙ্গা নদীর দূষণের ফলে জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হচ্ছে। প্রভাব পড়ছে শুশুক ও ঘড়িয়ালের উপর। শুশুক বা গঙ্গার ডলফিন, অতিরিক্ত রাসায়নিক দূষণ ও প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে ভারতের জাতীয় জলজ প্রাণী গঙ্গার শুশুকের অস্তিত্ব আজ মারাত্মকভাবে বিপন্ন।

প্রতিকারের উপায়:

  • বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ: কলকারখানা ও শহরের বর্জ্য নদীতে ফেলার আগে তা বৈজ্ঞানিক উপায়ে শোধন বা পরিশোধন করা।
  • পরিবেশবান্ধব ধর্মীয় আচার: মূর্তি বিসর্জন ও পূজার সামগ্রী ফেলার ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম চালু করা এবং বিকল্প ব্যবস্থা করা।
  • নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা: শুষ্ক আবহাওয়ায় নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ বা ইকোলজিক্যাল ফ্লো বজায় রাখা।
  • জনসচেতনতা বৃদ্ধি: নদী রক্ষায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা এবং কঠোর আইন প্রয়োগ করা।

যদিও এরপর প্রশ্ন রয়ে যায়, আর কবে সচেতন হবে মানুষ, আর কত আইন তৈরি হবে?

Translate »