নিজস্ব সংবাদদাতা: গত ১০০ বছরে বিশ্বের প্রথম সারির আলোকচিত্রীরা বারাণসীর ঘাটে এসেছেন, ফটো তুলেছেন, তারপর ফিরে গেছেন। বলা ভালো, বারাণসীতে আসেননি, এমন কোনও বিশ্ববিখ্যাত আলোকচিত্রী নেই বললেই চলে। আবহমানকাল কাল থেকে পশ্চিমের দেশগুলোর কৌতূহল তৈরি হয়েছে বারাণসীকে নিয়ে। ঘাটের চাতালে বসে রয়েছে সাধুসন্তদের দল, কেউ মন্ত্র পড়ে চলেছেন, কেউ-বা জ্য়োতিষ চর্চা করছেন। এদিকে, ব্রাহ্ম মুহূর্তে স্নান করে পরিচ্ছন্ন পোশাক পরছেন পুণ্যার্থীরা। প্রাচ্যের সভ্যতা বিস্তৃত রয়েছে বারাণসীর গঙ্গার ঘাটে। অদূরে মণিকর্ণিকার চিতা জ্বলছে, মোক্ষলাভের আকাঙ্খায়। যদিও, সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে কিছু পরিবর্তন এসেছে। আগের কিছু জিনিস এখন আর দেখা যায় না। আবার, এমন নতুন কিছু দেখা যায়, যা আগে দেখা যেত না। নব্বইয়ের দশকের গোড়া থেকে শুরু হয়েছে সন্ধ্যারতি। এই সন্ধ্যারতি ভিনদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে, নমামি গঙ্গে প্রকল্পের রূপকার যাঁরা, তাঁরা জোর দিচ্ছেন, বারাণসী-সংলগ্ন গঙ্গা যেন পরিষ্কার থাকে, ঘাটগুলো যেন পরিচ্ছন্ন থাকে। নমামি গঙ্গে-র কাশীর কোঅর্ডিনেটর রাজেশ শুক্লার কথায়, সব কিছু পরিচ্ছন্ন থাকতে বিদেশ থেকে আরও বেশি পর্যটক আসবেন বারাণসীতে। তার ফলে, স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে। প্রসঙ্গত, শুক্লা তাঁর স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে কিছুদিন আগেই গঙ্গার একটি ঘাট পরিচ্ছন্ন করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৫০ বছর ধরে গঙ্গার দূষণ নিয়ন্ত্রণে অনেক কাঠখড় পোড়ানো হয়েছে। আশির দশকে গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান। তারপর অধুনা নমামি গঙ্গে। তবু, যা হওয়ার তা হয়েই চলেছে। সম্প্রতি এক আরটিআই অ্যাকটিভিস্ট চিঠি পাঠান কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে। নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন থাকে সেই চিঠিতে। তার উত্তরে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ যা জানায়, তা রীতিমতো বিস্ময়কর। গঙ্গার মূলস্রোত বয়েছে চলেছে, এমন পাঁচটি রাজ্যের নিকাশী নালার জল বেশ কিছু পরিমাণ গঙ্গায় এসে মিশছে। ওই পাঁচরাজ্য হল, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ। এই রাজ্যগুলির তরল বর্জ্য পদার্থ পরিশ্রুত হয়ে গঙ্গায় মেশার কথা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তরল বর্জ্য যে-পরিমাণ পরিশ্রুত হওয়ার কথা, তার তিনভাগের একভাগ মাত্র অপরিশ্রুত হয়ে মিশছে গঙ্গায়। ওই পাঁচরাজ্যে, ১১,৭৮৫ মিলিয়ন লিটার তরল বর্জ্য তৈরি হয় প্রতিদিন। এই পাঁচরাজ্যে দূষিত তরল পরিশ্রুত করার ক্ষমতা রয়েছে, ৮ মিলিয়ন লিটারের একটু বেশি। তাই, অতিরিক্ত ৫ মিলিয়ন লিটার তরল বর্জ্য পরিশোধন করার সম্ভব হয় না। তা সোজা গঙ্গায় গিয়ে মেশে।

Translate »