নিজস্ব সংবাদদাতা: গঙ্গার উৎসমুখ গঙ্গোত্রী। এই গঙ্গোত্রী হিমবাহ ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে। গত দুই দশকে প্রায় ১ কিলোমিটার পিছিয়েছে গঙ্গোত্রী। পরিবেশবিদরা বলছেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহ গলছে। গলতে-গলতে পিছু হটছে। তাই গঙ্গার উৎসমুখেই জলের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। তারপর প্রবাহপথ ধরে এগোতে-এগোতে ক্রমশ শুকিয়ে যাচ্ছে গঙ্গা, মজে যাচ্ছে গঙ্গা। এমন দ্রুত হারে শুকিয়ে যাচ্ছে যে, যাকে নজিরবিহীন বললেও অত্যুক্তি হয় না। গঙ্গোত্রী-সহ একাধিক হিমবাহকে বলা হয় ‘ওয়াটার টাওয়ার অব এশিয়া’। উষ্ণায়নের ফলে এই টাওয়ার গলছে, বিপন্ন হচ্ছে। এই হিমবাহ গলার ফলেই ঘনঘন দেখা ধেয়ে আসছে হড়পা বান। সবমিলিয়ে বিপর্যস্ত প্রকৃতি, পরিবেশ ও পৃথিবী। হিমবাহ গলার ফলে প্রথমে হড়পা বান ধেয়ে আসছে। পরে দেখা যাচ্ছে, হিমবাহ থেকে উৎপন্ন নদী আর আগের মতো জল পেয়ে প্রবাহিত হতে পারছে না। বিশেষ করে সুখা মরসুমে মজে যাচ্ছে নদী।
এই যখন প্রকৃতির পরিস্থিতি, তখন মানুষ তাকে আরও বিপন্ন করে তুলছে। নদী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাময়িক সুরাহার জন্য ফরাক্কা ব্যারেজের মতো প্রকল্প তৈরি হয়। আর তার দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত ফল ভুগতে হয় সমাজের একটা বড় অংশকে। গঙ্গা সেখানে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আর এগোতে পারে না। তার প্রবাহ ব্যাহত হয়। সেই সঙ্গে লকগেটগুলোতে পলি পরে-পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। তাহলে দাঁড়ালটা কী? উৎসমুখেই হিমবাহ থেকে জল কম পাচ্ছে গঙ্গা। তারপর প্রবাহপথে বারেবারে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। কোথাও বাধ, কোথাও-বা অন্য কোনও কারণে। শেষের দিকে এসে তার জলের ভান্ডার শুকিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন শুকনো-দশা গঙ্গার বহমান ইতিহাসে আগে কখনও দেখা যায়নি। মানুষের শরীরে রক্তশূন্যতার মতোই গঙ্গার শরীরেও জলশূন্যতা দেখা দিয়েছে। যার প্রভাবে নিম্ন প্রবাহে তার শাখানদী বা উপনদীর জন্য জল অবশিষ্ট থাকছে না। তারফলে, ব্যাহত হচ্ছে সেচের কাজ। সঙ্কটে পড়ছেন কৃষক ও কৃষি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অচিরেই খাদ্যসঙ্কট দেখা দেবে। দেশের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের সাক্ষাৎকারেও এই খাদ্যসঙ্কটের কথা শোনা গিয়েছে সম্প্রতি।