নিজস্ব সংবাদদাতা: অ্যামাজন অববাহিকার বিশাল আকৃতির জলপদ্ম এবার ফুটলো ওড়িশা ভুবনেশ্বরের সচিবালয় ‘লোক সেবা ভবন’ -এ। এই প্রজাতির জলপদ্মকে স্থানীয় আবহাওয়ায় চাষ, সংরক্ষণ ও গবেষণার জন্যে এই উদ্যোগ নিয়েছিল জেনারেল এডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট বা সাধারণ প্রশাসন বিভাগ। ভিক্টোরিয়া অ্যামাজোনিকা(Victoria amazonica) নামের এই প্রজাতিটি বেড়ে উঠেছে সচিবালয়ের মধ্যে বিশেষভাবে তৈরি একটি জলাশয়ে। এই গাছটির পাতা বিশাল গোলাকার, ব্যাস তিন মিটার পর্যন্ত হতে পারে। সুগন্ধি এই ফুলগুলো ফোটার সময় প্রথমে সাদা রঙের থাকে। পরের দিকে তা পরিবর্তিত হয়ে গোলাপি বা বেগুনি রঙ হয়। এই উদ্যোগটির নেতৃত্বে ছিলেন জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্টের আর্বোরিকালচার( বৃক্ষপালন) শাখার অধীন ‘ক্যাপিটাল নার্সারীর সুপারিনটেনডেন্ট জয়ন্ত কুমার জেনা। তিনি জানান,পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার উদ্ভিদবিজ্ঞানী ড. আর. সারাডানানের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর থেকেই তিনি এই উদ্ভিদ প্রজাতিটির প্রতি বিশেষ আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
তিনি বলেন, আমরা প্রথমে একটি টিউবার বা কন্দ সংগ্রহ করে প্রাথমিকভাবে ‘ক্যাপিটাল নার্সারি’তে সেটির চাষাবাদ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাই। গাছটি জন্মানোর প্রক্রিয়াতে আমরা সফল হই। তারপরই আরেকটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করার উদ্যোগ নিই। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে চারটি কন্দ রোপন করা হয়। যার মধ্যে পুরুষ ও স্ত্রী দু ধরনেরই গাছ ছিল। এর মধ্যে তিনটি সফলভাবে বেড়ে ওঠে। এই মাসের শুরুতে প্রথম ফুল ফোটে। বিশালাকার এই জলপদ্ম দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদী অববাহিকা এবং গুয়ানা অঞ্চলের অগভীর ও শান্ত জলাশয়ের উদ্ভিদ। এর পাতাগুলোর ধার বা কিনারা উপরের দিকে বাঁকানো থাকে। আর পাতার নিচের দিকে থাকে বাতাসে ভরা মজবুত শিরা -উপশিরার একটি জালের মত বিন্যাস। এরই কারণে পাতাটি জলের ওপর ভাসতে পারে। এছাড়া, পাতার নিচের দিকে ও বোঁটায় থাকে তীক্ষ্ণ কাঁটা। যা জলজ তৃণভোজী প্রাণীদের হাত থেকে উদ্ভিদ টিকে রক্ষা করে।
এই ফুলটি সম্পূর্ণভাবে ফুটতে সময় লাগে প্রায় ৪৮ ঘন্টা। প্রথম রাতে এটি সুগন্ধি সাদা ফুল হিসেবে ফোটে।। নিশাচর গুবরে পোকারা আকৃষ্ট হয়ে পরাগায়নে সাহায্য করে। দ্বিতীয় রাতে এটি সাদা রং থেকে বেগুনি বা গোলাপি আভা ধারণ করে জলের উপরিভাগ থেকে নেমে এসে ভাসতে থাকে জলের মধ্যে। সাধারণ প্রশাসন বিভাগের এস্টেট শাখার অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর অঞ্জন কুমার দাস জানান, এই উদ্যোগটি জলজ উদ্ভিদের বৈচিত্রকে তুলে ধরবে। সঙ্গে উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করবে।এছাড়া,ওড়িশার আবহাওয়ায় এই প্রজাতির বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার নিয়ে গবেষণার সুযোগও তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এই ফুলটি ইতিমধ্যেই শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ওড়িশা ইউনিভার্সিটি অফ এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলজির ফরেস্ট্রি বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি ‘জায়ান্ট ওয়াটার লিলি ‘( বিশাল জলপদ্ম ) সম্পর্কে পড়াশোনা করলেও আগে কখনো সরাসরি এই ফুলটিকে প্রত্যক্ষ করেননি। প্রজাতন্ত্র দিবসে সাধারণের জন্য এই বাগানটি খুলে দেওয়া হবে। যাতে করে সবার দেখার সুযোগ থাকবে ‘জায়ান্ট ওয়াটার লিলি’কে।