নিজস্ব সংবাদদাতা: সে এক সন্ধিক্ষণ। ১৯৯৬ সালের মাঝামাঝি কাকতালীয়ভাবে ভারত ও বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন হয় প্রায় একই সময়ে। এদেশে তখন ক্ষমতায় আসে যুক্তফ্রন্ট। প্রধানমন্ত্রী হন দেবগৌরা। আর ঢাকায় একুশ বছর বাদে ক্ষমতায় ফেরে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। ওই বছরের ১২ ডিসেম্বর দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক গঙ্গাচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মেয়াদ ছিল ৩০ বছর। তাই, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

এরপর?
ঢাকায় এখন বিএনপি সরকার। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির উত্থান উদ্বেগে রেখেছে পড়শি দেশ ভারতকে। ২০২৪ সালে যুব অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন অন্যমাত্রা নিয়েছে। এমন এক তেতে ওঠা পরিবেশে গঙ্গা-চুক্তি কি পুনর্নবীকরণ হবে? কূটনৈতিক মহল বিষয়টিকে একভাবে দেখছে। গঙ্গা-চুক্তির তিরিশ বছরের মেয়াদ শেষ হলে তা পুনর্নবীকরণ হবে কি না, তা নিয়ে নানা মত রয়েছে। তবে, নদী ও পরিবেশের দিক থেকে দেখতে হলে বলতে হয়, চুক্তির পুনর্নবীকরণ হোক বা না-হোক, গঙ্গার যা দুরবস্থা, তা দূর করতে হবে আগে। মাত্রাতিরিক্ত দূষণের মোকাবিলা না-করতে পারলে, কোনও দেশই গঙ্গার উপর নির্ভর করে বেশিদূর এগোতে পারবে না।

ইন্টারগভর্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের যেসব অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ ভয়াবহ আকার নিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া। স্বাভাবিকভাবেই দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী গঙ্গাও এই বিশ্ব উষ্ণায়নের মুখে পড়ে বিপন্ন। দুই দেশের বহু মানুষের অন্ন সংস্থান হয় গঙ্গার সৌজন্যে। মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে বিভিন্নজীবী যে-গঙ্গার উপর নির্ভরশীল, তার স্বাস্থ্য ফেরাতে হবে আগে। জলবায়ুর পরিবর্তনে খামখেয়ালি হয়ে উঠছে বর্ষা। যার প্রভাব পড়ছে নদীতেও। কোথাও কোথাও বড় বেশি নোনা হয়ে উঠছে নদীর জল। নদীর নিজস্ব বাস্তুতন্ত্র বিঘ্নিত হচ্ছে। উপকূলবর্তী অঞ্চলে গাছ-গাছালি সব উধাও হয়ে যাচ্ছে। তার প্রভাব পড়ছে নদীর উপর। সেইসঙ্গে, বিভিন্ন কল কারখানা থেকে নির্গত তরল বর্জ্য গঙ্গাকে দূষিত করে তুলছে।

নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন শহর থেকে প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে মানব বর্জ্য ও অপরিশোধিত নর্দমার জল কোনো রকম প্রক্রিয়াকরণ ছাড়াই সরাসরি গঙ্গায় ফেলা হয়। চামড়ার কারখানা (ট্যানারি), কাগজ কল, চিনি কল ও রাসায়নিক কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত রাসায়নিক ও ভারী ধাতু নদীর জলের মারাত্মক ক্ষতি করে। চাষের জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে সেগুলি বৃষ্টির জলের সঙ্গে ধুয়ে নদীতে মিশে জলকে দূষিত করে।

Translate »