নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রকৃতি ও পরিবেশ বড় খামখেয়ালি হয়ে উঠছে ক্রমশ। আচমকা ধেয়ে আসছে জলোচ্ছ্বাস। ফুঁসে উঠছে নদী। মেঘভাঙা বৃষ্টি। একেবারে শহরাঞ্চলেও। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, কলকাতা আর আশপাশের এলাকায় আগে কখনও এমন মেঘভাঙা বৃষ্টি দেখা যায়নি। গত ১ বছরে, দু-দুবার মেঘভাঙা বৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছে কলকাতা। মাসদেড়েক আগে আচমকাই প্রবল বৃষ্টি নেমেছিল। অল্পসময়ের মধ্যে ভাসিয়ে দিয়েছিল শহরকে। যানবাহন কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। অফিস-ফেরত মানুষ হাঁটু অবধি প্যান্ট গুটিয়ে দীর্ঘ জলপথ পেরিয়ে বাড়ি ফিরেছিল।
পরিবেশবিদরা বলছেন, আমরা যদি ভাবি, এই বিপর্যয় শুধু পাহাড়ি অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে, তাহলে বলতে হয়, মূর্খের স্বর্গে বাস করছি আমরা। পাহাড়ি রাজ্য হিমাচল, উত্তরাখণ্ড তো আছেই, সেই সঙ্গে সমতলেও এই বিপর্যয় ঘনিয়ে আসছে। আবহাওয়াবিদ ও বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বছরদশের পর কলকাতার বেশ কিছু অঞ্চল ডুবে যেতে পারে। হুগলি নদী সংলগ্ন এলাকা আগে ডুববে। তারপর তার জল ভেসে আসবে বহুদূর অবধি।
নদী সংলগ্ন এক পুরনো জনপদ হল বাগবাজার। বরানগর ততোধিক পুরনো জনপদ। হুগলি নদী ফুঁসে উঠে আছড়ে পড়তে পারে এই দুই অঞ্চলে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, প্রথমে বাগবাজার ভেসে যেতে পারে। পরে সেই জল ক্রমশ এগিয়ে যেতে পারে। শ্যামবাজার, বেলগাছিয়া হয়ে লেকটাউনের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে জলস্রোত।
এদিকে আবার ভূমিকম্প নিয়েও সতর্কবার্তা দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। লেকটাউন থেকে নিউটাউন, যে কোনওসময়ে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। পরিবেশবিদরা বলছেন, একদা এই সব অঞ্চল ছিল জলাভূমি। সল্টলেক, নিউটাউন, সব জলা বুজিয়েই তৈরি হয়েছে। লেকটাউন একদা ছিল জঙ্গল। তাই, কলকাতায় বড়সড় ভূমিকম্প হলে আগে তার প্রভাব পড়বে এইসব এলাকায়।
পরিবেশবিদরা বলছেন, কলকাতায় প্রকৃতি কখনও এমন খামখেয়ালি হয়ে ওঠেনি। গরমকালে এত গরম, বর্ষাকালে পাহাড়ি অঞ্চলের মতো নিত্যদিন অঝোর ধারায় বর্ষণ, আগে কিন্তু সেভাবে দেখা যায়নি। গেলেও তা ছিল নেহাতই ব্যতিক্রম। এই ব্যতিক্রম ক্রমশ নিয়মে পরিণত হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়। কলকাতায় বায়ুদূষণ, বলা ভালো, বাতাসে ভাসমান ক্ষতিকর কণা এতই বেড়ে চলেছে যে, তা রীতিমতো উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। শহরাঞ্চলে আরও একটি ঘটনা ঘটছে নিঃশব্দে। লাগামছাড়া বহুতল বেড়ে চলায় ভূগর্ভের জল তলানিতে এসে ঠেকেছে। এভাবে চলতে থাকলে কিন্তু ধ্বংসস্তূপে মহেঞ্জোদারোর মতো পরিণতি হবে কলকাতার।