নিজস্ব সংবাদদাতা: দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি যে, শেষের সেদিন আসন্ন। সেই সঙ্গে বলে রাখা ভালো, শুধু আমাদের দেশ নয়, গোটা বিশ্বই সেই শেষের প্রহর গুনছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় এবার এমন এক শীতকাল আসছে, যেখানে একইসঙ্গে দাবানল, বন্যা ও ঝড়ের মুখোমুখি হতে হবে সেখানকার মানুষজনকে। কারণ?
কারণ আর কিছুই নয়, বিশ্বজুড়ে জলবায়ুর পরিবর্তন, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা। আর সবকিছুর নেপথ্যে রয়েছে বিশ্ব উষ্ণায়ন। প্রকৃতির রুদ্ররোষে ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর ঘটনা তো ঘটছেই। সেই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে— বড়সড় এক খাদ্য সঙ্কট আসতে চলেছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী ইতিমধ্যেই এক সাক্ষাৎকারে এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশ্বজোড়া এই খাদ্য সঙ্কটের মুখোমুখি হবে কয়েকশো কোটি মানুষ। আবহাওয়াবিদরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, আসছে ফেব্রুয়ারি মাসেই সাড়ে ৪ লক্ষ মানুষ এলনিনোর কারণে প্রবল উত্তাপের মুখোমুখি হবে। প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে প্রচুর। বন্যায় ভেসে যাবে ঘরবাড়ি। আবার তপ্ত খরাতেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটবে। বন্যা, খরা, বনে আগুন প্রবল বৃষ্টিতে কত মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হবে, তা ভাবলেই শিউরে উঠতে হয়।
পরিবেশবিদরা বলছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবেশ বিপর্যয় এমন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে চলেছে যে, তা রীতিমতো ঐতিহাসিক বিপর্যয় বলে গণ্য হবে।
এই বিপর্যয়ের কারণ একাধিক। বিশ্ব উষ্ণায়ন কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তা আঁচ করা আজ আর কারুর পক্ষেই কঠিন নয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কেন আমরা আগে থেকে বিপর্যয়ের পূর্বাভাস পেয়েও তাকে রুখে দিতে পারলাম না। এই প্রশ্নের উত্তরে কেউ কেউ বলছেন, আমরা রুখে দিতে চাইনি, তাই রুখে দিতে পারিনি। শিল্প বিপ্লবের সময় থেকে আমরা বাঘের পিঠে সওয়ার হয়েছি। তাই নামতে পারছি না। কেউ কেউ আবার বলছেন, একটা পর্যায় অবধি ঠিক আছে। কিন্তু থামতে জানতে হয়। আমরা থামতে পারিনি। তাই, ক্রমাগত রিয়েল এস্টেট তার বাণিজ্য বিস্তার করেছে। পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে। ভূগর্ভের জলের স্তর নিচে নেমে গেছে। তবুও আমরা থামিনি, থামতে পারিনি।