নিজস্ব সংবাদদাতা: শীতকালে ভারতে পরিযায়ী পাখি আসে সুদূর ইউরোপ, মধ্য এশিয়া, সাইবেরিয়া থেকে। হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শীতের সময় তারা এখানে আসে। ফ্লেমিঙ্গো বা বার-হেডেড গিজের মতো পাখিদের কথা আমরা জানি। কিন্তু, “লাজুক ” স্বভাবের এমন কিছু পরিযায়ী পাখি আছে, যাদের সম্বন্ধে আমরা সেভাবে জানি না। ১০ অক্টোবর “বিশ্বপরিযায়ী পাখি দিবস” উপলক্ষে এমনই ছ’টি পরিযায়ী পাখির কথা তুলে ধরা হলো। যাদের সচরাচর খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু, তারা আমাদের দেশের বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশে কিছুদিনের জন্যে আশ্রয় নিতে ভালোবাসে। পূর্ব সাইবেরিয়া এবং এশিয়ার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী “বাইকাল টিল”(Baikal Teal) এমনই ‘লাজুক’ প্রকৃতির পাখি। কখনো -কখনো শীতকালে আমাদের দেশে এদের দেখা মেলে। থাকার জন্যে জলাভূমি এবং অগভীর জলাশয় এরা পছন্দ করে। খুব সুন্দর দেখতে এই প্রজাতির পুরুষ হাঁসগুলোর মুখে বিশেষ ধরনের দাগ থাকে। এই “দাগ” ই অন্যান্য ছোট প্রজাতির হাঁস থেকে এদেরকে আলাদা করে তোলে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে হরিয়ানার সুলতানপুর জাতীয় উদ্যানে এই পাখির উপস্থিতি নথিবদ্ধ হয়েছে।

লাজুক গোত্রের আরেকটি পাখি হলো “ফ্যালকেটেড ডাক”(Falcated Duck)। এদের পালক কাস্তের মতো বাঁকানো। প্রজনন ঋতুতে এদের ধারণ করা বাহারি পালকের কারণে এই পাখিটিকে বলা হয় এশিয়ার অন্যতম অনন্য পরিযায়ী জলচর পাখি। এদের প্রজনন ক্ষেত্র পূর্ব এশিয়ায় হলেও তারপরে এরা সরে দক্ষিণে সরে আসে। গতবছর জানুয়ারি মাসে সুলতানপুর জাতীয় উদ্যানে এদের দেখা পাওয়া গিয়েছিল। ছদ্মবেশ ধারণে সক্ষম জ্যাক স্নাইপ(Jack Snipe) পাখিটিকেও একই গোত্রে ফেলা যায়। আকারে ছোট পরিযায়ী জলচর এই পাখিটি আমাদের দেশে আসে শীতকালে। এরা পছন্দ করে জলাভূমি ও ভেজা তৃণভূমি। গাছপালার আড়ালে ছদ্মবেশ ধারণ করে, কোন শব্দ না করে চুপচাপ লুকিয়ে থাকে। তার এই ধরা না দেওয়ার স্বভাবের কারণে পাখি পর্যবেক্ষকদের কাছে এদের খুঁজে পাওয়া “পরম প্রাপ্তি”।

সাধারণত কাদা ভরা জলভূমিতে খাবার খুঁজে বেড়ায় জলচর পাখিরা। কিন্তু, রেড- নেকড ফ্যালারোপ(Red-necked Phalarope)- এর চরিত্র ঠিক এর বিপরীত। এরা জলে সাঁতার কাটে এবং জলের উপরিভাগ থেকেই খাবার সংগ্রহ করে। আর্কটিক অঞ্চল এদের প্রজনন ক্ষেত্র। শীতকালে ভারতীয় উপকূলীয় অঞ্চল বিশেষ করে গুজরাট এবং দক্ষিণ-পূর্ব ভারতে এদের দেখা পাওয়ার রেকর্ড আছে। ঋতুভেদে এদের পালকের রঙের পরিবর্তন হয়। এরা একই রকমের খাবার সব সময় খায় না। খাবারে ভিন্নতা” এদের বিশেষ পছন্দ। উত্তর এশিয়া থেকে পাড়ি দিয়ে এখানে আসে সাইবেরিয়ান রুবিথ্রোট(Siberian Rubythroat)। ছোট্ট গায়ক এই পাখিটি শীতকালে ভারতের উত্তর ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের কিছু অংশে আসে। ঘন ঝোপঝাড়, একটু আদ্র পরিবেশই এদের পছন্দ। এদের পালকের রং বাদামি হওয়ার কারণে পরিবেশের সাথে মিশে যায় সহজে। “লুকিয়ে থাকা” স্বভাবের কারণে এদেরকে খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। সোশ্যাবল ল্যাপউইং(Sociableb Lapwing) এর সংখ্যা এখন অনেকটাই কমে গেছে। এটিকে “বিরল” পরিযায়ী পাখি বলা যায়। মধ্য এশিয়া এদের প্রজনন ক্ষেত্র। শীতকালে এরা আসে পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে গুজরাত এবং রাজস্থানে।

Translate »