নিজস্ব সংবাদদাতা: বায়ু দূষণে জেরবার দেশের বেশ কিছু বড় শহর। শীতকালে সবাইকে টেক্কা দেয় দিল্লি। এয়ার কোয়ালিটি বা বাতাসের গুণগত মান রীতিমতো ভাবিয়ে তোলে। এমনকি, সরকারি নির্দেশে বন্ধ হয়ে রাজধানীর প্রতিটা স্কুল। পরিবেশগত কারণে জরুরি-অবস্থা জারি করা হয়। তারপর শুরু হয় দায় ঠেলাঠেলির পর্ব। দিল্লিতে যে-সরকারই আসুক না কেন ক্ষমতায়, দূষণ-সমস্যা কিন্তু নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে চলতে থাকে। শীতকালে, দিল্লি লাগোয়া পাঞ্জাবে ফসলের নাড়া পোড়ানো হয়। তার ধোঁয়ায় দিল্লির দূষিত বাতাস আরও দূষিত হয়ে ওঠে। দমবন্ধ করা পরিবেশ তৈরি হয়। দিল্লি এই ঘটনার দায় চাপিয়ে দেয় পাঞ্জাবের উপর, পাঞ্জাব সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। সেখানকার কৃষকরা বলেন, এখন নাড়া পোড়ানো আগের চেয়ে অনেক কমেছে। দিল্লি তার দূষণের দায়িত্ব নিক, পাঞ্জাবের ঘাড়ে দোষ না-চাপিয়ে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, বায়ুদূষণে দিল্লি দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করলেও, অন্য রাজাগুলোও কিন্তু কম যায় না। দিল্লির দিকে চোখ রাখতে গিয়ে অন্য রাজ্যে বায়ুদূষণের ছবিটা কেমন, সেদিকে নজর দেওয়া হয় না। এই যেমন আমাদের কলকাতা। শীতকালে কলকাতার বায়ুদূষণ কিন্তু রীতিমতো উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে। অন্য বেশ কিছু শহরেও প্রায় একই অবস্থা। যেহেতু দিল্লির গুরুত্ব অনেক বেশি, তাই অন্য শহর নিয়ে ভাবা হয় না তেমন। আরও একটি বিষয় লক্ষ করা যাচ্ছে, যা কম উদ্বেগের নয়। এই ভরা বর্ষাতেও দূষণ কিন্তু কমেনি। এতদিন ধরে নেওয়া হত, বর্ষার বৃষ্টি সব মলিনতা ধুইয়ে দেয়। কিন্তু এখন তা-ও ঘটছে না। দেশের ২৫৮ খানা শহরের মধ্যে ২১৫ টা শহরের বায়ু, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র নির্ধারিত দৈনিক নির্দেশিকার চেয়ে বেশি। যাকে পার্টিকেল বলা হয়, সেই ধূলিকণার উপস্থিতি ২.৫। তর্কের খাতিরে কেউ বলতেই পারেন, এ-দেশের নির্ধারিত মানের বিচারে এই এয়ার পার্টিকল তেমন কিছু নয় ঠিকই। কিন্তু, সমস্যা দেখা দেয় অন্যত্র।
‘সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার’ (সিআরইএ) সম্প্রতি জানিয়েছে, এই ২.৫ কিন্তু উদ্বেগের বিষয়। বাতাসে ভাসমান এই কণা সহজেই ফুসফুসে পৌঁছে যায়। এরই সঙ্গে আরও অনেক ক্ষতিকর দূষিত পদার্থ শরীরে প্রবেশ করে। আর দিনের-পর-দিন এই দূষিত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ফলে নানারকম অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ে। দেখা যাচ্ছে, বর্ষাকালেও ‘স্পাইক’ সিআরইএ-র রিপোর্ট রীতিমতো উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বর্ষাতেও দেশের উত্তর ও দক্ষিণের কয়েকটি এলাকায় পিএম২.৫-এর মাত্রায় হঠাৎ বৃদ্ধি বা ‘স্পাইক’ দেখা গিয়েছে। দেশের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে উঠে এসেছে হরিয়ানার চরখি দাদরি-র নাম। অগস্টে সেখানে মাসিক গড় পিএম২.৫-এর মাত্রা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৬৮ মাইক্রোগ্রাম। মাসের ৩১ দিনের মধ্যে ১৮ দিনই সেখানে দূষণের মাত্রা ভারতীয় দৈনিক সীমা ছাড়িয়েছিল। দূষণের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে তামিলনাড়ুর গুম্মিডিপুন্ডি। সেখানে মাসিক গড় পিএম২.৫ ছিল ঘনমিটারে ৬২ মাইক্রোগ্রাম। হরিয়ানা, তামিলনাড়ু ও রাজস্থানের মোট তিনটি শহর ভারতীয় মানদণ্ডে ‘মাঝারি’ দূষণের শ্রেণিতে পড়েছে। বাকি শহরগুলির বেশিরভাগই ছিল ‘ভালো’ বা ‘সন্তোষজনক’ শ্রেণিতে। বর্ষা কি আজ তাহলে মলিনতা ধুইয়ে দিতে পারছে না?