নিজস্ব সংবাদদাতা: যে-দ্রুত গতিতে বিপর্যস্ত হচ্ছে আমাদের পরিবেশ ও প্রকৃতি, পেঙ্গুইনরা পর্যন্ত তাদের বাসস্থান হারাচ্ছে। আন্টার্টিকার কাছে এক প্রত্যন্ত দ্বীপে পেঙ্গুইনদের সংখ্যা হু-হু করে কমছে। ব্রিটিশ আন্টারটিক সমীক্ষা থেকে জানা যাচ্ছে, ২০১১ থেকে ২০২৫-এর মধ্যে এই দ্বীপকে নিজেদের বাসস্থান করে তুলেছিল পেঙ্গুইনের দল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, তাদের প্রজনন ভীষণভাবে ব্যহত হচ্ছে। ১০ লক্ষ ৯ হাজার থেকে তাদের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লক্ষর কাছাকাছি। পরিবেশবিদরা বলছেন, দীপ সংলগ্ন সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়তে থাকছে। আর ওই বাড়তে থাকা তাপমাত্রার সঙ্গে যুঝে উঠতে পারছে না বরফের দেশের পাখি পেঙ্গুইন। সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ায় তার নিজস্ব বাস্তুতন্ত্র বিপন্ন হচ্ছে। সেখানকার বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ আর আগের মতো বেড়ে উঠতে পারছে না।

পাখিদের রাজ্যে রং-বেরঙের বৈচিত্র্যের কোনও অভাব নেই। এক-একরকম পাখির এক-একরকম ডাক, এক-একরকম ধরনধারণ। তবে পেঙ্গুইনকে নিয়ে বিশ্বে যত চর্চা হয়েছে, ভিডিয়ো হয়েছে, ছবি তোলা হয়েছে, তা আর অন্য কোনো পাখিকে ঘিরে হয়নি। থপথপ করে বরফের পথ দিয়ে হেঁটে চলে পেঙ্গুইন। দল বেঁধে। বড়দের সঙ্গে ছোট পেঙ্গুইনরাও থাকে। একটা গোটা পরিবার যেন একসঙ্গে হেঁটে চলেছে বরফের দেশে। বলা ভালো, গোটা পাড়া-পড়শি মিলে যাতায়াত করে চলেছে বরফের পথ দিয়ে। দেখা গেছে, বাচ্চাদের খেলনার মধ্যে পেঙ্গুইন অন্যতম জনপ্রিয় খেলনা। সমুদ্রের তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহ গলতে শুরু করেছে। বরফের দেশের পাখি পেঙ্গুইনের প্রজনন তার ফলে প্রভাবিত হচ্ছে। যদিও পেঙ্গুইন এখনও বিপন্ন প্রাণী হয়ে ওঠেনি। তবে, যেভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে আমাদের পরিবেশ, তার ফলে এই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

পরিবেশবিদরা বলছেন, প্রকৃতি কখনও এমন খামখেয়ালি হয়ে ওঠেনি আগে। গরমকালে এত গরম, বর্ষাকালে পাহাড়ি অঞ্চলের মতো নিত্যদিন অঝোর ধারায় বর্ষণ, আগে কিন্তু সেভাবে দেখা যায়নি। গেলেও তা ছিল নেহাতই ব্যতিক্রম। এই ব্যতিক্রম ক্রমশ নিয়মে পরিণত হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়। বায়ুদূষণ, বলা ভালো, বাতাসে ভাসমান ক্ষতিকর কণা এতই বেড়ে চলেছে যে, তা রীতিমতো উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে।

Translate »