নিজস্ব সংবাদদাতা: আমরা এগিয়েছি ঠিকই। কিন্তু, আমারা দায়িত্ব নিতে শিখিনি। প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগ কী বিপর্যয ডেকে আনছে আজ, তা নিয়ে আমরা সচেতন। আমরা জানি, প্লাস্টিকের অতি ব্যবহারে নিকাশী ব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এমনকি, চড়ে খাওয়া গবাদি পশু ক্যারিব্য়াগ গিলে উদরে জমা করছে। বলা ভালো, করতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু আমাদের হুঁশ ফিরছে না। ইদানিং আরও একটা বিষয় লক্ষ করা যাচ্ছে। দোকান থেকে কচুরি নিয়ে এলে তার সঙ্গে তরকারি দেওয়া হয়, একেবারে পাতলা প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগে করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরম খাবারের সঙ্গে ফিনফিনে পাতলা ক্য়ারিব্যাগে বিক্রিয়া ঘটে দ্রুত। তরকারিতে দ্রুত মেশে প্লাস্টিকের উপাদান। দিনের-পর-দিন তা উদর দিয়ে শরীরে পৌঁছে যায়। আর তার পরিণতি কী হয়, তা বলাই বাহুল্য়। আশার আলো দেখা যায় এরই মাঝে, যখন দায়িত্বশীল কোনো নাগরিক সমুদ্রতীর থেকে প্লাস্টিক-সহ নানা ধরনের জঞ্জাল কুড়িয়ে তার পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে সৃজনশীল কিছু গড়ে তোলেন। প্রসঙ্গত, ওই সমুদ্র তীরে বেড়াতে এসে ওই আরর্জনা ছড়িয়েছিলেন আমাদেরই কিছু সহনাগরিক। ২৮ বছরের তরুণ চিনু কোয়াত্রা দেখলেন চারপাশে প্লাস্টিক ও ভাঙা মূর্তির ছড়িয়ে আছে। মোচ্ছব করে ময়লাগুলো সেখানেই ফেলে রেখে এসেছে।
চিনু ভাবলেন — আমরা যদি সবাই মিলে উৎসব করতে পারে, তাহলে পরিবেশ পরিষ্কার করতে পারবে না কেন?
১২ জন স্বেচ্ছাসেবককে নিয়ে দাদার সৈকত পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন চিনু। পরবর্তীতে এক শিক্ষকের পরামর্শে তিনি বুঝতে পারেন, এই উদ্যোগ এক দিনের হলে চলবে না, পরিবর্তন আনতে হলে প্রতি সপ্তাহে এই চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ‘বিচ ওয়ারিয়র্স’ নামের এক উদ্যোগ আন্দোলনে পরিণত হয়। ৯ বছরে মুম্বইয়ের দাদার, প্রভাদেবী, জুহু কোলিওয়াডা ও জুহু সিলভার সৈকতে তারা ২,০০০-এরও বেশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছেন। তাদের এই টানা প্রচেষ্টার ফলে সমুদ্রের জলে মেশার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ৪,০০০ টনেরও বেশি ক্ষতিকর বর্জ্য। একই সঙ্গে প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। এই প্রক্রিয়াজাত প্লাস্টিক দিয়ে কী তৈরি হচ্ছে জানেন? তৈরি হচ্ছে স্কুল ও পার্কের বেঞ্চ। প্রায় ২৫ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে তৈরি একটি বেঞ্চ উপহার দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্কুলের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের।