নিজস্ব সংবাদদাতা: যাঁরা মনে করছেন এআই আমাদের চাকরি-বাকরি খেয়ে নিচ্ছে, তাঁরা কিন্তু ভুল করছেন। কেন? কারণ, এআই শুধু চাকরিগুলো গিলে ফেলছে না, সেই সঙ্গে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বিষ্ণ উষ্ণায়ন নিয়ে সর্বক্ষণ আলোচনা করে চলেছি আমরা। অথছ, এই উষ্ণায়নের জন্যে দায়ী যে-ধরনের প্রযুক্তি, তা নিয়ে কিন্তু খুব কম খুলছি।
পরিবেশবিদরা বলছেন, উষ্ণায়ন কমানোর একটাই উপায়— আমাদের ভোগ-বিলাস কমাতে হবে, ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে শুরু করে এয়ার কন্ডিশনার, সব কিছুটে রাশ টানতে হবে। রিয়েল এস্টেটের সৌজন্যে একের-পর-এক বহুতল নির্মাণ হয়ে চলেছে, হয়েই চলেছে। কেউ দুটো করে ফ্ল্যাট কিনে রাখছে, কেউ-বা তিনটে। ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিনিয়োগ। কিন্তু, লাগামছাড়া বহুতল বহু ক্ষতি করে চলেছে। শহরাঞ্চলে কংক্রিট ছাড়া আর কিছু থাকছে না। মাটি হারিয়ে যাচ্ছে। মাটির নিচে ভূগর্ভস্থ জল তলানিতে গিয়ে ঠেকছে।
শুধু ভোগবিলাসে রাশ টানলেই চলবে না। পরিবেশবিদরা বলছেন, আমাদের কিছু উৎপটাং শখ-আহ্লাদেও রাশ টানতে হবে। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটা ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে। নিজের ছবি দাও, আশির দশকে ফিরে যাও। এই থ্রো-ব্যাক দেখে আমরা যারপরনাই আনন্দিত হচ্ছি ঠিকই। কিন্তু, এই অপ্রয়োজনীয় আনন্দের কত মূল্য চোকাতে হচ্ছে আমাদের পরিবেশকে, তা অনেকে কল্পনাও করতে পারবে না। ইন্টারন্যাশানাল এনার্জি এজেন্সি জানাচ্ছে, লক্ষকোটি নয়, এই রেট্রো লুকের জন্য একটা ফটোর পিছনে ০.০১ থেকে ০.০৯ কিলোওয়াট-আওয়ার্স বিদ্যুৎ খরচা হচ্ছে। দেখা গেছে, দু-বছর আগে এই গ্লোবাল ডেটা-সেন্টারের জন্য যে-পরিমাণ ইলেকট্রিসিটি খরচ হতো, মাত্র দুবছরের মধ্যে তা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে!
এবার আসা যাক জলের প্রসঙ্গে। বিশ্বের তিনভাগ জল আর একভাগ স্থল হলেও, ব্যবহারযোগ্য জলের পরিমাণ কিন্তু বেশি নয়। এআই-র জন্য যে ডেটা সেন্টার তৈরি করতে হয়, তা নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে প্রচণ্ড তেতে ওঠে। ওই তাপ কমাতে প্রচুর জল লাগে। ২০২৩ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার একটি গবেষণা বলছে, চ্যাট জিবিটিকে প্রশিক্ষণ দিতেই শুধু খরচ হয়েচিল ৭ লক্ষ লিটার স্বচ্ছ জল!
এই দু-বছরে এই জল-খরচ দ্বিগুণ বেড়েছে। যে কারণে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, যেখানে এআই ডেটা সেন্টার তৈরি হচ্ছে, সেখানে স্থানীয়রা আন্দোলনে নামছে। কারণ, এত জল খরচ হলে সেখানকার মানুষজন কী করে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম চালাবে? তাছাড়া, যে-বিপুল তাপ উৎপন্ন হবে ডেটা সেন্টার থেকে, তার প্রভাবে বিস্তীর্ণ এলাকার গড় তাপমাত্রা বেড়ে যাবে।
অতএব, একটা রেট্রো-ফটোর জন্য বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপন্ন হয়। প্রয়োজন হয় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের। আর সবশেষে প্রয়োজন হয় বিপুল পরিমাণ জলের। পরিবেশবিদরা কিন্তু সাবধান করে দিচ্ছেন, ভূগর্ভের জল কিন্তু ক্রমশ তলানিতে গিয়ে ঠেকছে। এই জল নিয়ে যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।