নিজস্ব সংবাদদাতা: আবহাওয়ার যে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে তা আমরা সবাই লক্ষ্য করছি। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আর্দ্রতা। সারাক্ষণ শরীর জুড়ে অস্বস্তি। এ ঘটনা শুধু আমাদেরই হচ্ছে তা নয়। সারা বিশ্ব জুড়ে এই একই ছবি। কারণ, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। পরিবর্তন এসেছে বৃষ্টিপাতের ধরনে। ঘনঘন নিম্নচাপ, ঘূর্ণাবর্তের কারনে যখন তখন যেখানে সেখানে বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়ার এই ধরনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে না আমাদের শরীর। বাড়ছে ত্বকের বিভিন্ন রোগ। এর কারণ হিসেবে সরাসরি দায়ী করা হচ্ছে আবহাওয়ার ‘পরিবর্তন’কে।

ইউরোপিয়ান একাডেমি অফ ডার্মাটোলজি এন্ড ভেনারোলজি কংগ্রেস ২০২৬ -এ উপস্থাপিত একটি নতুন আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ এক তথ্য। বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ডঃ এস্থার ফ্রীম্যান (Dr Esther Freeman) জানিয়েছেন, জলবায়ুর পরিবর্তন চর্ম রোগের ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলছে এবং এই প্রভাব নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর বেশ বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তন আমাদের ত্বকের ‘ক্ষতি’ করে শুনলে প্রশ্ন জাগে, তা কিভাবে সম্ভব? আসলে, শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ ত্বক। বাইরের পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রথম মুখোমুখি হয় আমাদের এই অঙ্গটি।এটি তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, সূর্যালোক এবং অন্যান্য পরিবেশগত পরিস্থিতির সংস্পর্শে আসে সরাসরি।

ডক্টর ফ্রীম্যান বলেন‌,’ আমরা প্রায়শই চরম আবাহাওয়ার কারণে হৃদরোগ, হিটস্ট্রোক এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কথা ভাবি। কিন্তু, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ত্বকই হলো সুরক্ষার প্রথম প্রতিরক্ষার স্তর।’ উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা ঘাম ও ত্বকের জ্বালাপোড়া বাড়িয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে তাপ ও বায়ুদূষণ শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি বা তা আরো তীব্র করে তুলতে পারে। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন মশা, এঁটুলি পোকা (ticks) এবং রোগ ছড়ানো অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থলও বদলে দিতে পারে। এর ফলে এমন সব এলাকায় এদের টিকে থাকার বা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, যেখানে আগে এদের সচরাচর দেখা যেত না। এদের থেকেও ত্বকে সংক্রমণ ঘটতে পারে।ত্বকের উপর ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে, এরপরই রয়েছে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়া। জলবায়ুর পরিবর্তনে ক্ষতি হচ্ছে আমাদেরই। কিন্তু, প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণের জন্যে আমরাই দায়ী একথা স্বীকার করতেই হবে।

Translate »